রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল রড (ইউরেনিয়াম)-এর পরবর্তী চালান আসবে আগামী ১ অক্টোবর। ওই মাসের ৮ তারিখে আরও একটি চালান আসার কথা রয়েছে। এভাবে মোট ৯টি চালান আনা হবে।
এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)-এর এক প্রতিবেদনে আজ বলা হয়েছে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় গত ২৪ সেপ্টেম্বরের চালানটি ঢাকায় পৌঁছায়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোম্পানি লিমিটেড (আরএনপিপিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান দেশ রূপান্তরকে জানান, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ৯টি জ্বালানির চালান আসবে। কোনো কারণে যদি ৯টি চালানই না আসে, তাহলে সেটি খবর হতে পারে। কিন্তু একটি চালান কোনো কারণে আসতে বিলম্ব হলে সেটি কোনো খবর হতে পারে না।
তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি আনার বিষয়টি স্পর্শকাতর। এজন্য যে রুট দিয়ে বিমান আসবে, সেই রুটের সবগুলো দেশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এখানেও তাই করা হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কোনো কারণে কোনো দেশের আকাশপথে ভিভিআইপি মুভমেন্ট বা অন্য কোনো কারণে ব্যস্ত থাকলে এটি পিছিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, কোনো একদিন আসতে দেয়নি বলে আর এই আকাশপথ ব্যবহার করা যাবে না, তারা এ ধরনের কথাও বলেনি।
এ ধরনের খবর আগে থেকে প্রচার করলে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। তিনি জানান, আগামী ১ ও ৮ অক্টোবর রূপপুরের আরও দুটি চালান আসার কথা রয়েছে।
প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ভিত্তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
বাংলাদেশের ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের স্বল্পসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালে রাশিয়া থেকে নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করে।
রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় রাশিয়ার একটি ভারী কার্গো বিমানে সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের ঢাকা অফিসের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ফরহাদ কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসেনি এটা শুনেছি, তবে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।’
এর আগে ২০২৩ সালে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে রাশিয়ার বিশেষ কার্গো বিমান। এবারও একই রুট ব্যবহারের কথা ছিল। তবে রাশিয়া নিরাপত্তার বিবেচনায় রুটটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না।
তবে এ ছাড়া রাশিয়া থেকে চীন, মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে যেমন আসা যায়, তেমনি রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, চীন, মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে বিকল্প বিমান রুটেও আসা সম্ভব।