'জীবনের আসল শান্তি' হারিয়ে ফেলেছেন ভোজিনহা

ফিফা বিশ্বকাপে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে একা হাতে আটকে দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টের পর অর্জিত রাতারাতি তারকা খ্যাতি ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ৪০ বছর বয়সী ফুটবলার। তাঁর মতে, অতিরিক্ত প্রচার ও খ্যাতির কারণে তিনি জীবনের স্বাভাবিক শান্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচসেরা পারফর্ম করার সময় তিনি একাই ৭টি নিশ্চিত গোল বাঁচান। ফ্ল্যাশস্কোরের ৯.৮ রেটিংয়ের পাশাপাশি ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যান তিনি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল মাত্র ৫০ হাজার, যা এখন দাড়িয়েছে ২.৮৪ কোটি।

মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। গ্রুপ পর্বে স্পেন (০-০), উরুগুয়ে (২-২) এবং সৌদি আরবের (০-০) বিপক্ষে অপরাজিত থেকে তারা শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিলেও ভোজিনহা ম্যাচটিতে আরও ৮টি অবিশ্বাস্য সেভ করেন। পুরো টুর্নামেন্টে ৭৮% সেভ রেট নিয়ে ১৮টি সেভ করেন তিনি, যা ব্রাজিলের বিশ্বখ্যাত গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকেও পেছনে ফেলে দেয়।

তবে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ছোট ক্লাব শাভেস-এ নিভৃত জীবনযাপন করা এই ফুটবলার এমন আকস্মিক তারকা খ্যাতি মেনে নিতে পারছেন না। এক সাক্ষাৎকারে ভোজিনহা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন, “আমার আর কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই। আগে যেমন শান্তিতে চলাফেরা করতে পারতাম, এখন আর তা পারি না। রেস্তোরাঁয় খেলে বা বাইরে বের হলে মানুষ ছবি তুলতে চায়, অটোগ্রাফ চায়। আর সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন কেউ লুকিয়ে ভিডিও করে। আমি আমার জীবনের আসল শান্তি ও স্থায়িত্ব হারিয়ে ফেলেছি।”

খ্যাতির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “অনেকেই বিখ্যাত হতে চান এবং তারকা জীবন পছন্দ করেন, তবে তারা কেবল এর ভালো দিকটাই দেখেন। সত্যি বলতে, আমাকে যদি আগের সাধারণ জীবন আর বর্তমান বিখ্যাত জীবনের মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, আমি আগের জীবনটাই বেছে নেব।”

বিশ্বকাপ শেষেই ভোজিনহা চিলির জনপ্রিয় ক্লাব কোল-কোল-তে স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে যোগ দেন। চুক্তি অনুযায়ী আগামী মেয়াদে থাকতে হলে অর্ধেকের বেশি ম্যাচে মাঠে নামার শর্ত রয়েছে, যা পূরণ করা তাঁর জন্য বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই ঝক্কি সত্ত্বেও দেশের হয়ে খেলার ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের। জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আবারও কাইপ ভার্দের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে  দলকে মূল পর্বে তোলার লক্ষ্যে। সম্প্রতি মালি-র বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের হারের ম্যাচে তাঁর একটি ভুলে গোল হজম করতে হলেও, ইয়াশিন ট্রফি (বছরের সেরা গোলরক্ষক) মনোনয়ন পাওয়া এই তারকাকে নিয়ে পুরোপুরি আশাবাদী দলের প্রধান কোচ উমবের্তো বেতেনকুর। আগামীকাল মঙ্গলবার রুয়ান্ডার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে মুখিয়ে আছেন এই কেপ ভার্দিয়ান প্রাচীর।