ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ 'উজ্জ্বল' দেখছেন ডন কার্লো

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের ঠিক আগের দিন সিলেসাওদের ভবিষ্যৎ ও দল গঠন নিয়ে নিজের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ব্রিসবেনের একটি থিয়েটারে কুইন্সল্যান্ড সরকার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সাম্প্রতিক নানা সমালোচনা সত্ত্বেও জাতীয় দল নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি একদম পরিষ্কার এবং ব্রাজিলিয়ান লিগ থেকে দলে আসা তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে তিনি দারুণ সন্তুষ্ট।

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৮ কোপা আমেরিকা ও ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শুরু হওয়া নতুন এই চক্রের প্রথম প্রীতি ম্যাচেও স্বস্তির জয় পায়নি ব্রাজিল। গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তুলনামূলক দুর্বল পারফরম্যান্সে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে এসব ব্যর্থতা ও ভক্ত-সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনাকে খুব একটা গায়ে মাখছেন না এই বর্ষীয়ান মাস্টারমাইন্ড।

কঠোর সমালোচনার জবাবে আনচেলত্তি বলেন, “সমালোচনা সব সময় ছিল এবং থাকবেও। কিন্তু জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার যে পরিকল্পনা বা দৃষ্টিভঙ্গি, তাতে এই সমালোচনার প্রভাব শূন্য। এখানকার তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স আমার খুব পছন্দ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আর্থার দিয়াস—যাকে আমি আগে চিনতাম না, কিংবা নতুন গোলকিপার বনটেম্পো ও জাইর—তারা সবাই দুর্দান্ত। সমালোচনা যতই হোক না কেন, আমি নিশ্চিত বলছি এই দলটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।”

তাৎক্ষণিক ফলাফলের পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে নতুন প্রজন্ম গড়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। আনচেলত্তি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যৎ নির্ভর একটি শক্ত ভিত্তি তৈরিতে তরুণদের ওপর এই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।

দল গঠন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো এমন এক নতুন প্রজন্ম তৈরি করা, যারা কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করবে। এখন স্কোয়াডে থাকা ২৬ জন ফুটবলারই হয়তো এই মুহূর্তের সেরা নন, তবে নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়ায় এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। তরুণ অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করাই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

জাতীয় দলের কোচের পদের চাপ নিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমরা ব্রাজিলকে পুনরায় বিশ্বফুটবলের মূল নায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। ব্রাজিল দলের কোচের দায়িত্বে থাকলে প্রত্যাশার পারদ সব সময়ই তুঙ্গে থাকে, এখানে আপনাকে বিশ্বকাপ জিততেই হবে। ক্যারিয়ারে এমন কোনো বছরের কথা মনে পড়ে না যেখানে প্রত্যাশার চাপ ছিল না। দায়িত্ব যত বড়, প্রত্যাশাও তত বেশি—আর আমাদের কাজ হলো মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়া।”

আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিসবেনে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর পর আগামী শনিবার কলকাতার মাঠে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইয়েলো-জার্সিধারীরা।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের জন্য একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছেন আনচেলত্তি। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে দলীয় ফর্মেশনে। শুক্রবারের ম্যাচে ব্যবহৃত চার ফরোয়ার্ডের ছক বদলে দলকে দেখা যাবে প্রথাগত ৪-৩-৩ ফর্মেশনে, অর্থাৎ তিন ফরোয়ার্ড ও তিন মিডফিল্ডার নিয়ে মাঠ সাজাবেন তিনি।

কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে কোচের ব্যাখ্যা, “ট্রানজিশন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। চার ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলায় অস্ট্রেলিয়া আমাদের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণের তেমন সুযোগ পায়নি। কিন্তু কখনো কখনো তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে খেললে গোল করার সুযোগ তৈরিতে সমস্যা হয় এবং ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে আমরা ভালো ফিনিশ করতে পারিনি। আমরা তিন মিডফিল্ডার কিংবা চার ফরোয়ার্ড—যেকোনো উপায়ে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।”

প্রীতি ম্যাচ হলেও এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে আনচেলত্তি বলেন, “কোচিং স্টাফ কিংবা খেলোয়াড়দের কেউই এটিকে সাধারণ প্রীতি ম্যাচ মনে করছে না। আমরা জানি আমরা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা এবং বিশাল এক দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের কাছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচের গুরুত্ব বিশ্বকাপের যেকোনো ম্যাচের সমান।”