অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সহায়তায় নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় আরও সমন্বিতভাবে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ)।

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশন ও বৈজ্ঞানিক সিম্পোজিয়ামের সমাপনী দিনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনরিথের ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আতিথেয়তায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আয়োজকেরা নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের কাছে হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল অ্যাটাচমেন্টের সুযোগ এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ বা কোর্স চালুর বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।

আয়োজকেরা জানান, অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও দুটি টেরিটরিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে দেশটিতে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে আগত চিকিৎসকদের সহযোগিতার জন্য ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।

এফবিএমএসএর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও দুটি টেরিটরিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি চিকিৎসক বসবাস করছেন। তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে গবেষণা ও কারিগরি উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন।

সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে জুনিয়র চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের পেশাগত দিকনির্দেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। হরমোন ও কিডনি রোগ, হৃদরোগের পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের কাছে রোগী পাঠানো, ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় ডোনানেমাব এবং রিউমাটোলজির সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

এ ছাড়া আরএসভি টিকাদান, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণ, মেনোপজ ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা নিয়েও বিভিন্ন অধিবেশনে আলোচনা হয়। দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলোর সমন্বয় করেন ডা. আকবর আশরাফী ও বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের শিক্ষা সম্পাদক ডা. মিহির রায়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী জিহাদ ডিব এমপি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. বুরহানউদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এবং অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নিউ সাউথ ওয়েলস শাখার সভাপতি ডা. ফ্রেড বেট্রোস।

বাংলাদেশ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়া অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চিকিৎসাশিক্ষায় তাঁদের অবদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রবাসী চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

সম্মেলনের প্রথম দিন ২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। চিকিৎসক, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের অংশগ্রহণে সংগীত ও বিভিন্ন পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী নকীব খানের পরিবেশনা ছিল অন্যতম আকর্ষণ।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় শতাধিক চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এ সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেন।

দুই দিনের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানচর্চা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।