প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ৩০৮ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে দেশের তিন বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নতুন প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৮ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার টাকা। এর পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) বাস্তবায়ন করা হবে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতের এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগীয় শহরের শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ সংস্কার, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও হোস্টেল ভবনসহ প্রয়োজনীয় আবাসিক ভবন স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রামের রৌফাবাদে বিদ্যমান মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানে ২০০ আসনবিশিষ্ট একটি হোস্টেল ভবন স্থাপন এবং প্রতিষ্ঠানটির সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং ফিজিক্যালি হ্যান্ডিক্যাপড ট্রেনিং (পিএইচটি) সেন্টারসমূহে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধুভাবাপন্ন ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, খুলনা পিএইচটি সেন্টারে ১৩০ জন, চট্টগ্রাম পিএইচটি সেন্টারে ১৭০ জন ও রাজশাহী পিএইচটি সেন্টারে ১৮০ জন এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান, রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে ৭৫ জনের অনুমোদিত আসন রয়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে ১০৮, ১২৫, ৯২ ও ১৯২ জন প্রতিবন্ধী শিশু বা শিক্ষার্থী অবস্থান করছে।

সূত্র জানায়, পিএইচটির এই ভবনগুলো ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে খুলনা ও রাজশাহীর পিএইচটি ২০১৪ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম পিএইচটি ২০১৬ সালে মূল ভবন ভেঙে অস্থায়ী একটি ভবনে নিবাসীদের রাখা হচ্ছে। ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় এবং আবাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ও জরাজীর্ণ হোস্টেলে বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আসন অনুপাতে প্রতিবন্ধী শিশু বা শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।