আমন ধানের ক্ষেতে অপরিমিত ও অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশক ব্যবহার রোধে লালমনিরহাটে আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ ও উপকারী পোকামাকড়।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন ব্লকে প্রতি সপ্তাহে একযোগে এই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোয়াহেল আহমেদ বলেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিকর পোকার সাথে বন্ধুভাবাপন্ন বা উপকারী পোকাও মারা যায়। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আমন ক্ষেতের পাশে আলো জ্বালিয়ে নিচে সাবান বা কেরোসিন মিশ্রিত পানির পাত্র রেখে আলোক ফাঁদ তৈরি করছেন।
আলোর আকর্ষণে ফাঁদে পড়া পোকামাকড় দেখে ক্ষেতে কী পরিমাণ ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা রয়েছে, তা শনাক্ত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পোকার উপস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের বিষ প্রয়োগ বা অন্যান্য বালাই ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গুড়িয়াদহ ব্লকে আয়োজিত আলোক ফাঁদ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অনেক সময় না বুঝেই জমিতে অতিমাত্রায় বিষ প্রয়োগ করা হয়, যা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বন্ধু পোকা ধ্বংস করে। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকা চিনে পরিমিত বালাইনাশক দিলে ফসল নিরাপদ থাকবে এবং কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোয়াহেল আহমেদ জানান, এই পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের অপচয় যেমন কমছে, তেমনি আগাম বালাই সতর্কতা নিশ্চিত করাও সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে সদর উপজেলার আমন ক্ষেতের সার্বিক অবস্থা সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি আমন মৌসুমে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় হাইব্রিড ও উফশীসহ বিভিন্ন আধুনিক জাতের মোট ১৫ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।