শ্রীপুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা করায় এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা আর গালমন্দ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরামা গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিল করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদিকে পরিবার নিশ্চিত করেছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট আর সমালোচনা করায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে-এটা পুলিশও জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া এনসিপি নেতার নাম আশরাফুল ইসলাম সজল (২৬)। তিনি বরামা গ্রামের মৃত ইমকিয়াজ উদ্দীনের ছেলে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি শ্রীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

শ্রীপুর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মামুন হাসান বলেন, নতুন ফ্যাসিবাদী কায়দায় আমাদের একজন পরীক্ষিত নেতাকে পুলিশ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তার নামে অভিযোগ নাই, কোনো মামলা নাই। তবুও গ্রেপ্তার করে। আমরা এর নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই। সজল সব সময় এনসিপির আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিল। শেখ হাসিনাকে তাড়ানোর আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা। ঢাকার বিভিন্ন মিছিল, আন্দোলন ও গণভবন ঘেরাওসহ নানা আন্দোলনে আমাদের সাথে সামনে ছিল। তবুও আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার বিরোধী মত দমনের চেষ্টা করছে।

শ্রীপুর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহ জানান, সজল আমাদের কর্মী। দলীয় পরিচয় নিশ্চিত জেনেও গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন এখনো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে। তাদের ফ্যাসিবাদী কাজ চলছেই। সে ধারাবাহিকতায় সজলকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া এনসিপি নেতা আশরাফুল ইসলাম সজলের মা আসমা আক্তার বলেন, পুলিশ তাকে জানিয়েছে ফেসবুকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পোস্ট আর মন্তব্য করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে সহজ-সরল। তাই ভুল করতে পারে। পরে পোস্ট সরিয়েছে, ভুল স্বীকার করেছে। তবুও স্থানীয় রাজনীতির প্যাঁচে পড়ল। কিন্তু বিনা অপরাধে সহজ-সরল ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হলো-এটা মানতে পারি না।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনর আলম জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য নয়। বরং আমরা তাকে গ্রেপ্তারের অনেক পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখেছি। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।