কিশোরীকে ধর্ষণে সৎবাবার ফাঁসির আদেশ    

তিন বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীকে ধর্ষণ এবং এর ফলে ভুক্তভোগীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় তার সৎ বাবাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত জামাল হোসেন নামের এ আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় দেন।

অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ না করলে তা আদায়ে দণ্ডিতের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে বা তার আইনগত উত্তরাধিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি জামাল হোসেনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ৫৬ বছর বয়সি জামাল হোসেন ১৩ বছরের কিশোরীকে পাশবিক নির্যাতন করে ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে, যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা না হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই কিশোরী তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থেকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল। মা না থাকার সুযোগে ২০২৩ সালের ২৮ আগষ্ট জামাল হোসেন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে আরও কয়েকবার ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় কিশোরীর মা জামাল হোসেনকে অভিযুক্ত করে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। 

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে আদালত ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।