উপাচার্যের ছবি হাতে শিক্ষার্থীদের মিছিল, কর্মবিরতিতে শিক্ষক-কর্মকর্তারা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন আট দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনের সপ্তম দিনে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ছবি মুখের সামনে ধরে মিছিল করেছেন। অন্যদিকে, একই দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত যায়। পরে সেখান থেকে আবার প্রধান ফটক এলাকায় ফিরে আসে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’—এমন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ খণ্ডন করতে শিক্ষার্থীরা মুখের সামনে ধরা ছবি সরিয়ে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদর্শন করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তা পাঠ করা হয়। বার্তাটি পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নাবিলা রাইসা।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি, সবার আগে বাংলাদেশ—এই মহান আদর্শকে সামনে রেখে আপনি যে নবজাগরণের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে আশা ও স্বপ্ন জাগিয়েছেন এবং একটি নতুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা সেই বাংলাদেশেরই তরুণ প্রজন্ম। আপনি ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রধানমন্ত্রী। আমরা বিশ্বাস করি, চুয়েটের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর এই যৌক্তিক দাবিও আপনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।’

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কর্মবিরতি চলছে। আমাদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আমাদের দাবির বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ভাবছি। আমাদের আলোচনা হবে সরকারের সঙ্গে। নতুন উপাচার্যের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তথ্যের ঘাটতি অনেকটা কমে আসছে। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগিরই সমাধানে পৌঁছাতে পারব বলে আমি আশাবাদী।’

চলতি বছরের ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই কয়েক শ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেন।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর সকালে উপাচার্যের পদ থেকে অধ্যাপক আবু সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা আট দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তিন দিন ধরে তারা সর্বাত্মক কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন।