হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যয় বেড়েছে ৮৪৮ কোটি টাকা। এ নিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াল ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। নির্মাণকালও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনেই শাহজালালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই সংশোধন অনুমোদন করা হয়। একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনটি প্রকল্প ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফেরত দেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের জোগান ১০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। পাঁচ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ থাকছে। বাকি ৩৮২ কোটি টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন। অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর পাঁচটি সংশোধিত, বাকিগুলো নতুন প্রকল্প।
পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী। তিনি বলেন, প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বেশি লেগেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই আরও যথাযথভাবে করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি নীতিমালা করার বিষয়ে একনেক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই হবে এবং প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে।
তৃতীয় দফা সংশোধনের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে মূল প্রকল্পের তুলনায় বাড়তি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। ওই বছরের জুনে কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সংশোধন করে মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়। সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। তখন ব্যয় বাড়ানো হয় ৮৪৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এবার তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন থাকছে ৫ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। বাকি ১৭ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।