দাঁত-চুল দিয়ে গয়না

১৯ শতকে রানী ভিক্টোরিয়ার আমলে মৃত প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখতে বা শোক প্রকাশের জন্য মানুষের চুল ও দাঁত দিয়ে গয়না তৈরির চল শুরু হয়। তখন  বাচ্চাদের দুধদাঁত বা চুল দিয়েও নেকলেস ও ব্রোচ বানানো হতো। বর্তমানেও অনেক শিল্পী ও প্রতিষ্ঠান যেমন  গ্রাভ  মেটাললুম  বা পল ভ্যান ডার গ্লাস মানুষের চুল, নখ ও দাঁত দিয়ে কাস্টম গয়না তৈরি করছেন। শোকাতলা মানুষদের সান্ত্বনা দেওয়া বা স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখাই এ ধরনের গয়না তৈরির মূল উদ্দেশ্য। প্যালিয়েট ওয়ার্ক পদ্ধতিতে চুলকে আঠা বা গঁদ দিয়ে একটি সমতল পৃষ্ঠের (যেমন হাতির দাঁত বা কাচ) ওপর বসানো হতো। এরপর নকশা অনুযায়ী কেটে বা মুড়িয়ে গাছ, ফুল বা প্রিয়জনের নামের প্রথম অক্ষর  তৈরি করে লকেটের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। প্রথমে সংগৃহীত দাঁতটিকে (সাধারণত মৃত ব্যক্তির বা শিশুর প্রথম পড়া দুধদাঁত) ভালো করে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হতো। মাউন্টিং পদ্ধতিতে যে প্রক্রিয়ায় গয়না করা হতো তা হলো এই ফ্রেমের ওপর দাঁতটিকে বসিয়ে ব্রোচ, আংটি বা নেকলেসের লকেটে রূপ দেওয়া হতো। অনেক সময় দাঁতের ওপর সোনা দিয়ে নকশাও খোদাই করা হতো। রানী ভিক্টোরিয়া নিজে তার মেয়ে প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়ার প্রথম পড়া দুধদাঁত দিয়ে তৈরি একটি ব্রোচ পরতেন। ভিক্টোরিয়ান যুগের চুলের এবং দাঁতের গয়নাগুলোর ডিজাইন তৎকালীন সময়ে গভীর ভালোবাসা, স্মৃতি এবং শোকের প্রতীক ছিল। কিছু বিখ্যাত গয়না স্মারক হিসেবে বিবেচিত। রানী ভিক্টোরিয়া তার সন্তানদের দাঁত দিয়ে বেশ কিছু স্মারক গয়না তৈরি করিয়েছিলেন। রানী ভিক্টোরিয়ার জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়ার প্রথম পড়া দুধদাঁত দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল।