শেষটা রাঙাতে চায় বাংলাদেশ

ফিফা আসিয়ান কাপে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে দেশে ফিরতে চায় বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি এখন সম্মান রক্ষার লড়াইয়ের পাশাপাশি আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিরও সুযোগ।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে হারের পর মঙ্গলবার সকালে শুরুর একাদশের খেলোয়াড়রা জিমে রিকভারি সেশন করেছেন। অন্যদিকে বিকেলে মাঠে অনুশীলন করেছেন বদলি ও বেঞ্চের খেলোয়াড়রা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে এই অনুশীলন করেছে দল। মিডফিল্ডার সোহেল রানা জুনিয়রের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর আসিয়ান কাপের ম্যাচগুলো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। প্রায় তিন মাস ঘরোয়া লিগ না থাকায় ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ফুটবলাররা। জাতীয় দলের ক্যাম্পও হয়েছে সীমিত সময়ের জন্য। সোহেল বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য এই আসিয়ান কাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় তিন মাস আমরা খেলার বাইরে ছিলাম, ঘরোয়া লিগও ছিল না। মাত্র চার সপ্তাহ অনুশীলন করেছি, কোনো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচও খেলিনি। তবে এ দুই ম্যাচ খেলার পর খেলোয়াড়দের অনেক উন্নতি হয়েছে, আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।’

ইন্দোনেশিয়াকে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন সোহেল রানা। প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক ব্লক ধরে রাখার পরিকল্পনা বাংলাদেশের। ‘ইন্দোনেশিয়া এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। কোচের পরিকল্পনা হলো প্রথম মিনিট থেকেই মিড-ব্লক ধরে রাখা এবং ম্যাচ কীভাবে এগোয়, তা দেখা, ’ বলেন সোহেল।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে খেলেছিলেন মিনহাজুল করিম শাদিন। জাতীয় দলের হয়ে সাম্প্রতিক অভিষেক হওয়া এই ফরোয়ার্ড মনে করছেন, হারলেও দল আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো খেলেছে এবং সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। শাদিন বলেন, ‘স্ট্রাইকার হিসেবে দলকে সহায়তা করা এবং সুযোগ তৈরি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমরা হেরেছি, তবে অনেক ভালো খেলেছি এবং সুযোগও তৈরি করেছি। ফুটবল অনিশ্চিত খেলা। দেশে ফেরার আগে জয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণভাগে ইউরোপীয় ফুটবলে খেলা এলকান বাগট ও কেভিন ডিকসের মতো খেলোয়াড় থাকলেও তা নিয়ে ভীত নন শাদিন। তার মতে, ফুটবলে প্রত্যেক খেলোয়াড়ই বিপজ্জনক হতে পারেন। ‘ফুটবলে প্রত্যেক খেলোয়াড়ই বিপজ্জনক। আমরা পেশাদার খেলোয়াড়, তাই যেকোনো জায়গায় খেলতে হবে। কোচের পরিকল্পনা আছে, মাঠে দেখা যাবে কী হয়,’ বলেন শাদিন।

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম দুই ম্যাচের ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ইতিবাচক পারফরম্যান্স নিয়ে ফিরতে চায় দল। কোচ টমাস ডুলির অধীনে এই ম্যাচে পাওয়া অভিজ্ঞতা নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিতে কাজে লাগানোই লক্ষ্য বাংলাদেশের।