সার উদ্ধার অভিযানে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা-সাংবাদিক হামলার শিকার

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় অবৈধভাবে মজুতকৃত সার উদ্ধার অভিযানে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের উপর হামলা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কামারজানি বন্দরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস শাহাদাত ফাহিম বলেন, আমি যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সাথে যেটা হয়েছে, সেটা মোটেও ঠিক হয়নি। অবৈধ সার মজুতকারী ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সিকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত মূল্যে এসব সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে কামারজানি বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সী তার দোকানে জেলার বাহিরে থেকে এনে ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুদ করেছেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালায় কৃষি বিভাগ।

অভিযানে সানোয়ার মুন্সির গুদামে অবৈধ ইউরিয়া সারের মজুদ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের উপরে হামলা চালানো হয়।

এ সময় কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক, সদর  উপজেলা কৃষি অফিসার, সময় টেলিভিশন রিপোর্টার বিপ্লব ইসলাম, সোহেল রানাসহ স্থানীয় ৫ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস শাহাদাত ফাহিম, স্থানীয় কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। 

পরে অভিযুক্ত সানোয়ার মুন্সিকে অবৈধ সার মজুদের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সেইসাথে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা মোটেই ঠিক হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কামারজানি ইউনিয়নে ভুট্রার চাষ হওয়ার কারণে সারের বাড়তি চাহিদা সবসময়ই থাকে। নির্ধারিত ডিলারের সার দিয়ে সবার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। একারণেই হয়তো বাহিরে থেকে সার আনা হয়েছিল। তবে অবৈধভাবে এসব সার আনা ঠিক হয়নি।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম জানান, মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।  ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।