নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ার হতাশা কি তবে সরাসরি প্রভাব ফেলল অনুশীলনে? পর্তুগাল দলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক বিতর্ক। স্কোয়াডে থাকার পরও বেঞ্চে সময় কাটানোর ঠিক পরের দিনই সুইডেনের মাটিতে অনুশীলনের মাঝপথে হোটেলে ফিরে যাওয়ার ঘটনা জন্ম দিয়েছে তীব্র আলোচনার।
উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে গত রবিবার ওসলোর মাঠে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল পর্তুগাল। কিন্তু সেই জয়ের রাতে ম্যাচের একটি মিনিটও মাঠে নামার সুযোগ পাননি ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম জাতীয় দলের হয়ে স্কোয়াডে থাকার পরও কোনো ম্যাচ না খেলে পুরো সময়টা সাইডবেঞ্চে কাটাতে হয় রোনালদোকে।
আল-নাসরে একসঙ্গে কাজ করা এবং পর্তুগিজদের বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুস অবশ্য ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ইনজুরির কারণ নেই বলে জানান। সঙ্গে জানিয়ে দেন কেন তাকে রাখলেন বেঞ্চে বসিয়েই। ‘আমি তাকে (ক্রিশ্চিয়ানো) নামানোর কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু খেলা অন্যরকম পরিস্থিতির জন্ম দেয়।’
রোনালদোর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো সংশয় না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করে জেসুস আরও যোগ করেন, ‘যতক্ষণ আমি চেয়েছিলাম, খেলার জন্য সে পুরোপুরি ফিট ছিল।’
কোচের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত যে রোনালদো খুব সহজে মেনে নেননি, তার প্রমাণ মিলল নরওয়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিনই। ডেনমার্কের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য পর্তুগিজ দল যখন সুইডেনের মালমোহতে ট্রেনিং সেন্টারে ঘাম ঝরাচ্ছে, তখন রোনালদো যেন ভাবছিলেন ভিন্ন কিছু।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’-র তথ্য অনুযায়ী, কোচ জেসুসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনার পর জিম সেশনে অংশ না নিয়ে হঠাৎই সতীর্থদের ছেড়ে টিম হোটেলের দিকে হেঁটে চলে যান রোনালদো। বাকিরা যখন মাঠে ও জিমে ব্যস্ত, তখন সিআরসেভেন হোটেলের নিজ কক্ষে আলাদাভাবে ট্রেনিং সম্পন্ন করেন।
দলের সবচেয়ে বড় তারকার এমন আকস্মিক অনুশীলন ত্যাগ পর্তুগালের ড্রেসিংরুমে তৈরি করেছে বাড়তি গুঞ্জন। তবে বয়সের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা মহাতারকা এই আচরণকে অবশ্য খুব বড় করে দেখছেন না কোচ। আগামীকাল ডেনমার্কের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে তাকে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে না পর্তুগাল কোচ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে সে দৌড় থেকে ছিটকে গেছে, বরং উল্টোটা। সম্ভবত সে ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলবে।’