পাইপ আছে, পাম্প আছে, নেই শুধু পানি

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের বাসিন্দাদের নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে পানি সরবরাহ প্রকল্প। বসানো হয়েছে ৩৩ কিলোমিটার পাইপলাইন, স্থাপন করা হয়েছে চারটি গভীর নলকূপ ও আধুনিক পাম্প হাউস। লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৬৫০ পরিবারকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পৌরবাসীর ঘরে পৌঁছেনি এক ফোঁটা পানি।

প্রায় ৭০০ বাড়িতে পানির সংযোগ দেওয়া হলেও সেগুলো পড়ে আছে নিষ্ক্রিয় অবস্থায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৩টি পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে উলিপুরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, উলিপুর পৌর শহরের মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি পানির পাম্প এবং ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়।

কুড়িগ্রামের মেসার্স আদিল ইন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২২ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে এবং ২০২৩ সালে কাজ শেষ করে। তবে প্রকল্পের কাজ ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের হওয়ায় পানি সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। পাম্প চালু করলেই পাইপ ফেটে লিকেজ দেখা দেয়। ফলে পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্প বুঝে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এতে এখনো পানি সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পাম্প হাউস তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। কক্ষের ভেতরে ধুলার স্তর জমেছে, যন্ত্রপাতিতে ধরেছে মরিচা। ভবনের চারপাশেও জন্মেছে আগাছা। ফলে এক বছরের প্রকল্প তিন বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি।

পৌরসভার নারিকেল বাড়ী খামার গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান বলেন, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি থেকে পৌরবাসী কোনো সুফল পায়নি। পৌরসভার অধিকাংশ এলাকাই গ্রামাঞ্চল হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকেই দূষিত পানি ব্যবহার করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কম খরচে সুপেয় পানি পাওয়ার আশা ছিল তাদের।

জোদ্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তপন কুমার রায় বলেন, ভালো পানির আশায় ১০০ টাকা দিয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে কোনো রকমে বাড়িতে সংযোগের পাইপ এনে রাখা হলেও তিন বছর ধরে এক ফোঁটা পানিও পাননি তিনি। একই অবস্থা ওই এলাকার তন্ময় সরকার, বিপ্লব সরকার, শফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম মন্ডলের।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদিল ইন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. আমিনুর রহমান বলেন, ত্রুটিগুলো ঠিক করতে কাজ চলমান রয়েছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলম বলেন, প্রকল্পে ব্যবহৃত পাইপগুলো নিম্নমানের হওয়ায় পানির চাপ সহ্য করতে পারছে না এবং ফেটে যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্পে ওভারহেড পানির ট্যাংক ও বাড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভ ট্যাংক না থাকায় গ্রাহকেরা সরাসরি সংযোগ নিতে পারছেন না।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, পাইপলাইনে অনেক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটি কার্যকর করতে হলে ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ করতে হবে।