দেশে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও পাঠদানের মান বাড়াতে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘ইনডাকশন ওয়ার্কশপ ফর দ্য নিউলি রিক্রুটেড ফ্যাকাল্টি মেম্বারস’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করে গড়ে তুলতে শিক্ষকতার গুণগত মান উন্নয়ন জরুরি। এ জন্য আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, গবেষণা সক্ষমতা এবং শিক্ষকদের নিয়মিত পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেও দেশে অন্যান্য পেশাজীবীর জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে উঠলেও শিক্ষকদের জন্য বিশেষায়িত কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। তাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইউজিসি সদস্য বলেন, প্রস্তাবিত একাডেমিতে শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণ নয়, শিক্ষকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও থাকবে। এর মধ্যে সুইমিং, ড্রাইভিংসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ড. মামুন বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহযোগিতা এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে পরবর্তী ধাপে সামার স্কুল প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক সক্ষমতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইনকিউবেশন সেন্টার ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।

ড. মামুন আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। শিক্ষকরা যাতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য পদ সৃষ্টি, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, অনুদান ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অংশ নেন। এতে নতুন শিক্ষকদের একাডেমিক দায়িত্ব, পেশাগত উন্নয়ন, মানসম্মত পাঠদান ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।