যে কীর্তি করতে পারেনি ভারত, তবে হজম করলো দুই বার!

ওয়ানডে ক্রিকেটে দলীয় বা ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি এখন আর আগের মতো আকাশকুসুম কোনো ব্যাপার নয়। তবে একই ইনিংসে কোনো দলের তিনজন ব্যাটারের সেঞ্চুরি করা এখনো ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিরল এক কীর্তি। ওয়ানডে ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ বার একই ইনিংসে তিন সেঞ্চুরির দেখা মিলেছে। অথচ ক্রিকেট পরাশক্তি ভারতের মতো দল আজ পর্যন্ত একবারও এই রেকর্ডের খাতা খুলতে পারেনি। উল্টো চরম এক লজ্জার ইতিহাস জড়িয়ে গেছে তাদের নামের সঙ্গে—এই বিরল কীর্তির দুটিই ঘটেছে ভারতের বিপক্ষে, যার সর্বশেষটি এসেছে আজই গুয়াহাটিতে!
 

১. দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (জোহানেসবার্গ, ২০১৫)

  • সেঞ্চুরিয়ান: হাশিম আমলা (১৫৩*), রাইলি রুশো (১২৮), এ বি ডি ভিলিয়ার্স (১৪৯)
  • ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার একই ইনিংসে ৩টি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনিং জুটিতেই হাশিম আমলা ও রাইলি রুশো ২৪৭ রান তোলেন। এরপর ক্রিজে এসে রীতিমতো তাণ্ডব চালান এ বি ডি ভিলিয়ার্স। মাত্র ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি এবং ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ৩১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে খেলেন ৪৯ বলে ১৪৯ রানের অতিমানবীয় ইনিংস। প্রোটিয়ারা তোলে ৪৩৯ রান এবং ম্যাচটি ১৪৮ রানে জেতে।

২. দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ভারত (মুম্বাই, ২০১৫)

  • সেঞ্চুরিয়ান: কুইন্টন ডি কক (১০৯), ফাফ ডু প্লেসি (১৩৩, রিটায়ার্ড হার্ট), এ বি ডি ভিলিয়ার্স (১১৯)
  • ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার এই লজ্জার তিক্ত স্বাদ দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কুইন্টন ডি কক মাত্র ৭৮ বলে সেঞ্চুরি করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেন ফাফ ডু প্লেসি। এরপর শেষদিকে ভারতের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান ডি ভিলিয়ার্স। মাত্র ৬১ বলে ১১টি ছক্কায় ১১৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৩৮ রান তুলে ভারতকে ২১৪ রানে পরাজিত করে।

৩. ইংল্যান্ড বনাম নেদারল্যান্ডস (আমস্টেলভিন, ২০২২)

  • সেঞ্চুরিয়ান: ফিল সল্ট (১২২), ডাওয়িড মালান (১২৫), জস বাটলার (১৬২*)
  • প্রোটিয়াদের বাইরে প্রথম দল হিসেবে এই কীর্তি গড়ে ইংল্যান্ড। ডাচ বোলারদের ওপর স্টিমরোলার চালিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৯৮ রানের রেকর্ড স্কোর গড়ে ইংলিশরা। ফিল সল্ট তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি (১২২) পান, মালান করেন ১২৫। তবে মূল আকর্ষণ ছিলেন জস বাটলার, যিনি মাত্র ৭০ বলে ১৪টি ছক্কায় ১৬২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন। ইংল্যান্ড ম্যাচটি জেতে ২৩২ রানে।

৪. দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কা (দিল্লি, ২০২৩)

  • সেঞ্চুরিয়ান: কুইন্টন ডি কক (১০০), রাসি ভ্যান ডার ডুসেন (১০৮), এইডেন মারক্রাম (১০৬)
  • বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে এক ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। দিল্লির মাঠে ডি কক (১০০) এবং ডুসেন (১০৮) বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। এরপর এইডেন মারক্রাম মাত্র ৪৯ বলে বিশ্বকাপের তৎকালীন দ্রুততম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১০৬ রান করেন। প্রোটিয়াদের ৪২৮ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা ১০২ রানে ম্যাচটি হেরে যায়।

৫. অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (ম্যাকাই, ২০২৫)

  • সেঞ্চুরিয়ান: ট্র্যাভিস হেড (১৪২), মিচেল মার্শ (১০০), ক্যামেরন গ্রিন (১১৮*)
  • ওয়ানডে ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া প্রথমবার এই তালিকায় নাম লেখায়। ওপেনিংয়ে ট্র্যাভিস হেড (১৪২) ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ (১০০) ২৫০ রানের জুটি গড়েন। এরপর তিনে প্রমোশন পেয়ে ক্যামেরন গ্রিন মাত্র ৪৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার ৪৩১ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম ২৭৬ রানের ব্যবধানে হারে।

৬. ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ভারত (গুয়াহাটি, আজ)

  • সেঞ্চুরিয়ান: জন ক্যাম্পবেল (১০১), আমির জাঙ্গু (১০০), শাই হোপ (১০৪)
  • গৌহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে আজ ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ইতিহাসের ষষ্ঠ এবং ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটলো। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম তিন ব্যাটারই সেঞ্চুরির দেখা পান। ওপেনার জন ক্যাম্পবেল (১০১), তিন নম্বরে নামা আমির জাঙ্গু (১০০) এবং অধিনায়ক শাই হোপ (১০৪) ভারতীয় বোলারদের সাধারণ মানের বানিয়ে এই রেকর্ড গড়েন।