রাজধানীর উপকণ্ঠ খিলগাঁও থানাধীন ত্রিমোহনী এলাকার ব্যস্ততম মাদবর বাড়ী সড়কে সড়কের ওপর ট্রলি ট্রান্সফরমার বসিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও স্থানীয়রা।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, মূল সড়কের পাশ থেকে একটি গলির রাস্তা যুক্ত হয়েছে। ঠিক ওই স্থানেই বিদ্যুতের খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে সড়কের ওপর ট্রলি ট্রান্সফরমার বসিয়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
সড়কের ওপর বসানো ট্রলি ট্রান্সফরমারের কারণে বিপরীত দিক ও গলি থেকে আসা যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করতে পারছে না। একটি যানবাহনকে অপর পাশের যানবাহন অতিক্রম করার জন্য প্রায়ই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া দ্রুতগতির কোনো ট্রাক ওই সড়কে এসে ট্রলি ট্রান্সফরমারটিতে আঘাত করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে জানতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর বনশ্রী সাব-জোনে যোগাযোগ করা হলে কমপ্লেইন সুপারভাইজার মো. সাকিব উল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপৎকালীন সময়ের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ওই ট্রলি ট্রান্সফরমার বসিয়ে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ওখানে আর কোনো বিকল্প স্থান না পাওয়ায় সড়কেই ট্রলি ট্রান্সফরমারটি বসানো হয়েছে। আশা করছি, নতুন ট্রান্সফরমার পাওয়া গেলে কাল-পরশুর মধ্যে ট্রলি ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নিতে পারব।’
ডিপিডিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ওখানকার ট্রান্সফরমারটি জ্বলে গিয়ে নষ্ট হয়ে পড়লে বিকল্প হিসেবে ট্রলি ট্রান্সফরমারটি দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫–৬ ফুট দূরে অবস্থিত একটি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা শাহীন বলেন, ‘দোকান খুলতেই ভয় লাগে, কখন না জানি ট্রাক এসে মেরে দেয়। ক্রেতারাও এখন আমার দোকানে দাঁড়িয়ে কিছু কিনতে ভয় পান।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহের আলী বলেন, ‘এটা তো চরম বিপদ ভাই। বাচ্চা-কাচ্চাকে কাছে আসতে বারণ করেছি। কিন্তু কে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে পাহারা দেবে?’
অটোযাত্রী রাবেয়া বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই পথে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করি। ভয় লাগে, কখন না জানি এটা বিস্ফোরণ হয়!’
অটোচালক রবি বলেন, ‘রাতে এই সড়কে ট্রাকগুলো দ্রুতগতিতে চলে। কখন কোন ট্রাক এসে ট্রান্সফরমারে আঘাত করে, কে জানে! সেটি হলে ভয়াবহ বিপদ হবে।’