প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন, এমপি’র সভাপতিত্বে এই বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

​বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এমপি, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি, এস, এম জিলানী এমপি, আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, রেজা আহাম্মেদ এমপি, লুৎফুর রহমান এমপি এবং মো. আব্দুল বাতেন এমপি অংশগ্রহণ করেন।

​বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং কমিটির সদস্যসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাসমূহের প্রধানদের সাথে পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে শহিদ ছাত্র-জনতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির গৃহীত পদক্ষেপসমূহের ওপরও আলোকপাত করা হয়।

​বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা, টেকসই অর্থনীতি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কৌশলগত রূপকল্প বাস্তবায়নে স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন কর্তৃক প্রণীত 'সেভ এনার্জি, সেভ মানি' শীর্ষক একটি যুগান্তকারী কনসেপ্ট উপস্থাপন করা হয়। বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষার প্রেক্ষাপটে এ পরিকল্পনাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও জ্বালানি ট্রানজিশনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ পরিকল্পনার প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:

​১. গ্রিন ডিফেন্স ও সোলারাইজেশন: সরকারি বাজেটের ওপর চাপ না ফেলে ‘পিপিপি’ বা ওপেক্স মডেলে কোনো প্রাথমিক মূলধন ছাড়াই বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সেনানিবাস, নৌঘাঁটি, ডকইয়ার্ড ও প্রতিরক্ষা আবাসনের অব্যবহৃত ছাদে রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন। এর ফলে প্রতিরক্ষা খাতের বিদ্যুৎ বিল ৩০-৪০% সাশ্রয় হবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্মার্ট নেট-মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে সরকারের বিদ্যুৎ ভর্তুকি হ্রাসে সহায়তা করবে।

২. ওয়েস্ট-টু-ওয়েলথ ও সার্কুলার অর্থনীতি: সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অ্যানারোবিক ডাইজেস্টারের মাধ্যমে জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ এবং উচ্চমানের অর্গানিক ইউরিয়া/কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা। যা মিলিটারি ফার্ম ও বনায়নে ব্যবহার করে সার আমদানির ব্যয় কমানো সম্ভব। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও মেটাল বর্জ্য শতভাগ রিসাইক্লিংয়ের আওতায় আনা।

৩. বিওএফ সক্ষমতা ও মেকানিক্যাল ক্লাস্টার: বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা এবং নৌ ডকইয়ার্ডগুলোর উন্নত মেশিনারিজ ও রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, পিডব্লিউডি, পিডিবি-সহ সরকারি অন্যান্য সংস্থার ভারী ইকুইপমেন্ট ও খুচরা যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করা। এর মাধ্যমে প্রতিবছর শত শত মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং ভবিষ্যতে তা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

৪. এনার্জি অডিট: সামরিক ও বেসামরিক প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে ‘এনার্জি অডিট টাস্কফোর্স’ গঠন করে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও সরকারি ভবনে সিস্টেম লস ও অপচয় রোধ করা।

​বৈঠকে পুরাতন আমলের মেশিনারিজ পরিহার করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করা এবং মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

​বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।