হৃদয়ের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পরও পাকিস্তানের কাছে হার বাংলাদেশের

বৃষ্টির কারণে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আজকের সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারের খেলা হয়। এর সঙ্গে ছিল মন্থর উইকেটের চ্যালেঞ্জ। বিশাল চিড় ধরা উইকেটে কখনো বল অনেক নিচু হয়ে যায়, তো কখনো একই জায়গায় পড়ে ব্যাটসম্যানের মাথার কাছাকাছি চলে আসে। এর মধ্যেও তাণ্ডব চালান তাওহীদ হৃদয়। তবে তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পরও ৬ উইকেটে হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাপানের নিশিনে হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের তাণ্ডবের সৌজন্যে ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৯ বল আগেই জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। এই ম্যাচ হারের ফলে এশিয়ান গেমসে ফাইনালে ওঠা হলো না লিটন দাসদের। এবার ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়বেন তারা।

যদিও আজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই তোলে ১০ রান। রান তোলার এই গতি ধরে রাখতে গিয়ে দলীয় ১৭ রানে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আউট হন। ৫ বলে ৭ রান করেন তিনি। এরপর অধিনায়ক লিটন দাস (২) ও পারভেজ হোসেন ইমন (১) সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ২১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পর ১৭ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসানও।

হঠাৎ এমন ব্যাটিং ধসের পর দলের হাল ধরেন হৃদয়। তাকে সঙ্গ দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। একপ্রান্তে মোসাদ্দেক ধরে খেললেও অন্যপ্রান্তে হৃদয় ছিলেন আক্রমণাত্মক। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। ২৫ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হৃদয়। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা।

শেষদিকে হৃদয়ের পর মোসাদ্দেকও (১১) দ্রুত ফিরে যান এর সঙ্গে শেখ মেহেদী হাসানের ৪ বলে ৮ রানের সৌজন্যে ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানকে আউট করেন অফ স্পিনার মেহেদী। পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ফেরান দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকা আরেক ওপেনার মাজ সাদকাতকে। এরপর সাইম আইয়ুব ব্যাটিংয়ে এসে মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর তাণ্ডব চালান। তবে এই বাঁহাতি পেসারকে উইকেট দিয়েই ১২ বলে ২১ রানে ফেরেন তিনি।

এরপর নিজের প্রথম ওভার করতে এসে উসমান খানকে (১৪) আউট করে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেন রিশাদ হোসেন। কিন্তু পরে বোলারদের এলোমেলো বোলিংয়ে পথ হারায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা৷ আব্দুর সামাদের ১৫ বলে ৩০ ও হাসান নেওয়াজের ২২ বলে ২৭ রানের সৌজন্যে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে ২ ওভারে ৪১ রান দেন মুস্তাফিজ। নাসুম দেন ৩ ওভারে ৩৩ রান।