মেলবোর্নে জাতীয় কবির কালজয়ী সৃষ্টি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টি এবার উঠে আসছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মঞ্চে। কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’। আগামী ৪ অক্টোবর (রবিবার) মেলবোর্নের ড্যানডেনংয়ে ড্রাম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। মেলবোর্ন সময় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা) পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠানটি। নাটক, গান ও নাচের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে নজরুলের মানবতা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা। আয়োজনে প্রায় ৩৬০ জন দর্শক উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে থাকবে ‘সুর ও বাণীর অর্ঘ্য’, যেখানে নজরুলের কবিতা ও গানের সমন্বয়ে বিশেষ পরিবেশনা তুলে ধরা হবে। এরপর মঞ্চস্থ হবে নজরুলের গীতিকা “ঝিলিমিলি” এবং গীতি-নাট্য ‘কাবেরী তীরে’। অস্ট্রেলিয়ায় এই প্রথম নজরুলের দুটি সৃষ্টি একই মঞ্চে পরিবেশিত হবে। সমসাময়িক মঞ্চায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের বৈচিত্র্য তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। 

অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সৃজনশীল পরিচালনায় রয়েছেন মেলবোর্নপ্রবাসী বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী ও নজরুলচর্চার সঙ্গে যুক্ত আদিলা নূর। বাংলাদেশ ও মেলবোর্নের শিল্পীদের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন। নাট্য নির্দেশনায় থাকবেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব বৃন্দাবন দাশ। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বেও থাকবেন আদিলা নূর। নৃত্য পরিচালনা ও কোরিওগ্রাফিতে থাকবেন মেলবোর্নপ্রবাসী পূরবী চৌধুরী। 

এ উপলক্ষে একটি স্মারক প্রকাশনাও প্রকাশিত হবে। এতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিজনের লেখা থাকবে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী, শিক্ষক ও সংগঠক খায়রুল আনাম শাকিল; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারপারসন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ; সংগীতশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. লীনা তাপসী খান; ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার কলা ও সংস্কৃতি অনুষদের ডিন এবং ২০২৩ সালের নজরুল পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন; আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ ও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ড. চঞ্চল খান; এবং ছায়ানটের সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক শারমিন সাথী ময়না। 

অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে মূল বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন। শুধু কবিকে স্মরণ করাই নয়, ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ আয়োজনের লক্ষ্য বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সংযোগ আরও দৃঢ় করা।