প্রি-শিপমেন্ট ঋণে সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ স্কিমের আওতায় নতুন ঋণ বিতরণে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার বিপরীতে ৩ শতাংশ সুদ দেবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, রপ্তানি সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন তহবিল (ইএফপিএফ) থেকে ২ হাজার কোটি টাকা স্থানান্তর করে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের তহবিল ৮৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইএফপিএফের অবশিষ্ট তহবিলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত ইএফপিএফের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়। রপ্তানির আগে কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ খাতে পুনঃঅর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানোর ফলে রপ্তানিকারকদের অর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ নেওয়া যাবে। অন্যদিকে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিলে এর বিপরীতে ৩ শতাংশ সুদ দিতে হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংককে পুনঃঅর্থায়নের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ব্যর্থতার সময়ের জন্য ব্যাংক রেটে সুদ দিতে হবে। এতে নির্ধারিত সময়ে পুনঃঅর্থায়নের অর্থ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল রাখা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও নেওয়া পুনঃঅর্থায়নের অর্থ সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধ করতে পারবে। অর্থাৎ, আগাম পরিশোধ বা আংশিক সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালের ১৮ মে জারি করা সার্কুলার এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এ পরিবর্তন এনেছে। নতুন নির্দেশনায় আগের সার্কুলারগুলোর অন্যান্য শর্ত ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিটের মাধ্যমে ঋণ সহায়তা দেওয়া হলে তাদের রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।