রাড্ডায় হামলা: বিচার না হলে মিরপুর অচল করে দেওয়ার হুমকি এমপি আরমানের

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত না হলে মিরপুর অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মহানগরীর নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও নাজিম উদ্দিন মোল্লাসহ দলটির মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আরমান বলেন, আল্লাহর ঘর সফর করে, তওবা করে এসেছি। আমার মানুষের অধিকার যারা হরণ করেছে, তাদের বিচারের জন্য যা করা প্রয়োজন তাই করব। মৃত্যুর জন্য তৈরি হয়ে এসেছি। তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই করব।

হামলার ঘটনায় ফুটেজে আসা শুটার লেলিন এবং হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে মোহাম্মদ হানিফের নাম উল্লেখ করে আরমান বলেন, লেলিন এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয় নাই। এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হানিফ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয় নাই।

তিনি বলেন, দুইজন সংসদ সদস্যের নাম উচ্চারণ করে গেলাম, তাদের গ্রেপ্তার করে চার্জশিট দিয়ে বিচারের ব্যবস্থা যদি না করা হয়, আমরা মিরপুরকে অচল করে দেব ইনশাআল্লাহ।

রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারের ঘটনাকে শুধু মিরপুরের বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী গডফাদারদের ধরতে হবে। এটি শুধু মিরপুরের জন্য নয়। মনে রাখতে হবে, এই রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার শুধু মিরপুরের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ।

আরমান বলেন, এখানে হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা গেলে সারা দেশের দখলবাজ, চাঁদাবাজ ও মাফিয়ারা সতর্ক হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে সরকারি ও আন্তর্জাতিক বরাদ্দ নিয়ে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ‘গরীবের হাসপাতাল’ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

ঢাকা-১৪ আসনসহ সারা দেশে দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের নাম সংসদে প্রকাশ করে বিচারের আওতায় আনার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেন আরমান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সেলিম উদ্দিন রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক মাফিয়াতন্ত্রের চরম বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো লজ্জাজনক ঘটনার জন্ম হয়েছে, এটি নিকৃষ্টতার দিক থেকে, অসভ্যতার দিক থেকে, বর্বরতার দিক থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি নিকৃষ্টতম ঘটনা।

সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে শুধু মিরপুর নয়, পুরো ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে ‘কড়ায়-গণ্ডায় জবাব’ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানানোর কথাও বলেন তিনি।

হাসপাতাল পুননির্মাণের দাবি জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজনে ঢাকা মহানগরীর জনগণ আরও অর্থ দেবে এবং হাসপাতালটিকে মা ও শিশুর জন্য অত্যাধুনিক ও নিরাপদ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।