নিষেধাজ্ঞার পরও দলিল করায় যশোরে সাব-রেজিস্ট্রারসহ ৮ জনের নামে মামলা

আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল জমি হস্তান্তরে। নামজারি কার্যক্রমও ছিল স্থগিত। এর মধ্যেই ভুয়া ডিসিআর তৈরি করে ছয় শতক জমি হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। দলিলে জমিটির বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি টাকা। এ ঘটনায় যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগমসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন শহরের ঘোপ জেল রোডের ফজলে আকবরের ছেলে ফজলে লাব্বী। বিচারক মাহমুদা বেগম মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন সদর সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগম, ঘোপ জেল রোডের মোশারফ হোসেন, উপশহরের ফজিলায়ারা খাতুন, দলিলের সাক্ষী ফকরুল কবির বুলবুল, মহসিন আলী ও জামাল হোসেন, দলিলের শনাক্তকারী ওমর ফারুক সাগর এবং দলিল লেখক কাজী রুহুল কুদ্দুস।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ফজলে লাব্বীর বাবা ফজলে আকবর ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৪২৯৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আরএস ১৭৭০ দাগসহ বিভিন্ন দাগের মোট ৮২ দশমিক ৪৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করেন। পরে ওই জমি ফজলে লাব্বীর নামে নামজারি হয় এবং তিনি নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছিলেন।

বাদীর অভিযোগ, ওই জমির ছয় শতক আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাদের পরিবারের সাবেক কেয়ারটেকার মোশারফ হোসেন ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ১৪২৭৪ নম্বর একটি জাল কবলা দলিল তৈরি করেন। পরে সেটির ভিত্তিতে নামজারির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ নিয়ে ফজলে লাব্বী দেওয়ানি মামলা করলে ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট আদালত তাঁর পক্ষে একতরফা আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমিতে উচ্ছেদ, মাটি কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, হস্তান্তর কিংবা জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই আপিল আদালতও ওই আদেশ বহাল রাখেন।

এর আগে ফজলে লাব্বীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই ছয় শতক জমির নামজারি-সংক্রান্ত ১১৪৩৮/৯-১/২০২০-২১ নম্বর মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং নামজারি কার্যক্রম স্থগিত থাকার পরও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল ডিসিআর তৈরি ও ব্যবহার করে জমিটি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০৫৬৩/২০২৫ নম্বর সাব-কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। এতে ছয় শতক জমির বিক্রয়মূল্য দেখানো হয় তিন কোটি টাকা।

বাদীর দাবি, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাইয়ের যে ডিসিআর ব্যবহার করে দলিলটি সম্পাদন করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে ওই ডিসিআরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ভুয়া ডিসিআর ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি এবং জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

মামলায় সাব-রেজিস্ট্রারসহ আসামিদের বিরুদ্ধে জাল দলিল সম্পাদন, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বক্তব্য জানতে সদর সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগমের মুঠোফোনে রাতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।