ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতির লক্ষ্য হতে হবে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি

চলতি অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য এই প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিগত স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে গৃহীত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, এটি ব্যবসায়িক আস্থা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করবে। তবে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধিই নতুন মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হতে হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিল্ড।

মুদ্রানীতি কমিটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পলিসি রেপো হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তবে বিল্ড বাংলাদেশ ব্যাংককে ঘোষিত নীতি হার এবং প্রকৃত ঋণ গ্রহণের ব্যয়ের (১৩ থেকে ১৭ শতাংশ) মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে বিল্ড।

সংস্থাটি মনে করে, এ ব্যবধান অনেক বেশি থাকায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও, ঝুঁকি প্রিমিয়াম, প্রসেসিং চার্জ এবং ব্যাংকভিত্তিক স্প্রেড (৩ দশমি ৫ শতাংশ) যোগ হওয়ার পর অনেক এসএমই এবং সিএমএসএমই ঋণগ্রহীতার জন্য কার্যকর সুদের হার অনেক বেশি থাকে। এটিই বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে আটকে থাকার অন্যতম কারণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যবসার জন্য সহজ ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত লেন্ডিং-ডিপোজিট সুদের হারের ব্যবধান (স্প্রেড) কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার আশঙ্কাজনকভাবে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন লোপ পাচ্ছে এবং মুদ্রা সঞ্চালন দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্য ফেরাতে সুশাসন ও পুনরুদ্ধার জোরদার করার পাশাপাশি একটি স্পষ্ট ও সময়াবদ্ধ খেলাপি ঋণ সমাধান কৌশল ঘোষণার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানায় বিল্ড।

আগস্ট মাসে হেডলাইন ইনফ্লেশন বা পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশে নেমে আসার পর মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের যে অগ্রগতি হয়েছিল, সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধি তা উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ এর ফলে পরিবহন, উৎপাদন ও ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিল্ড মনে করে, মুদ্রানীতিতে শুধু নীতি হার মনিটরিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি স্পষ্ট সঞ্চালন কাঠামো তৈরি করায় জোর দেওয়া যেতে পারে। এই কাঠামোর সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, এসএমই ঋণ এবং কর্মসংস্থান, চলতি মূলধন অর্থায়নের প্রাপ্যতা, জামানতের শর্ত, ঋণ অনুমোদনের সময়, খাতভিত্তিক ঋণপ্রবাহ এবং নীতি হার ও কার্যকর সুদের হারের ব্যবধানের সংযোগ থাকতে হবে।