সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৭৬ জন উদ্ধার, আটক ১১

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সেন্ট মার্টিন ও তৎসংলগ্ সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ এ অভিযান চালায়। নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

MixCollage-02-Oct-2026-01-25-AM-4254

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেন্ট মার্টিন লাইট হাউস থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। বোটটিকে সহায়তার জন্য এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নৌবাহিনীকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে সেন্ট মার্টিন ও আশপাশের এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটি উদ্ধার করে। এ সময় বোটটিতে পানি প্রবেশ করছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাদের আটক করা হয়েছে।

MixCollage-02-Oct-2026-01-26-AM-6800

অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্র অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে সমুদ্রপথে ওই বোটে তোলা হয়।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বহনকারী বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করায় যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। সময়মতো অভিযান চালিয়ে ৭৬ জনকে উদ্ধার করায় সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মানব পাচার ও চোরাচালানসহ সমুদ্রপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।