এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ছেলেদের ইভেন্টে সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই জাপানে পা রাখে বাংলাদেশ দল। সেখানে পৌঁছে অধিনায়ক লিটন দাস জানান, অন্তত ফাইনালে খেলতে চান তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়েছে তাদের। গতকাল জাপানের নিশিনে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জবাবে ৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। এখন ব্রোঞ্জ পদকের আশায় আছেন লিটনরা।
গতকালের ম্যাচে বাংলাদেশের হারের কারণ হিসেবে মাঝের ওভারে বোলিংয়ের ঘাটতিকে কাঠগড়ায় তোলেন অধিনায়ক লিটন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম, তাহলে (জেতার) সুযোগ বেশি ছিল।’
বাংলাদেশের ১১১ রানের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান তাওহীদ হৃদয়ের। ২৫ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ২টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। তবে বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ পায়নি তারা। ২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হৃদয় দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। ব্যাটিং ব্যর্থতার পেছনে জাপানে অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখছেন লিটন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসে, সঙ্গে আমরা টস হেরে গেছি। আমাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো। কিন্তু এটা খুব সহজ নয় যে আপনি এত দিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব অসাধারণ ইনিংস খেলে ফেলবেন।’
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে ১০ রান তুলে ভালো শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ১৭ রানে তানজিদ হাসান তামিম ৫ বলে ৭ রান করে ফেরেন। এরপর লিটন নিজে ৩ বলে ২ ও পারভেজ হোসেন ইমন ১ রান করে আউট হলে মাত্র ২১ রানে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসানও ১৭ বলে ১৯ রান করে ফেরেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন হৃদয়। এক প্রান্তে মোসাদ্দেক ধরে খেললেও অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ছিলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তাতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ দল।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। এক পর্যায়ে ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দলটি। তবে বাংলাদেশি বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে বেগ পেতে হয়নি তাদের। বিশেষ করে অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ছন্নছাড়া বোলিং করেন। ২ ওভারে ৪১ রান খরচ করেন তিনি। যে উইকেটে স্পিনাররা সহায়তা পাচ্ছেন, সেখানে পেসার মুস্তাফিজ প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়ার পরও তাকে কেন ব্যবহার করা হলো, ম্যাচ শেষে সেই প্রশ্ন ওঠে। জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অনেকজনই ছিল বিকল্প হিসেবে। আজ মুস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। এত দিন তো করে আসছে। আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’
ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা নিয়ে জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেমিফাইনালেই থামতে হলো তাদের। এখন লিটনদের সামনে কেবল ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই। আগামীকাল সে লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।