ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৬ গোল। এরপর একের পর এক গোল হজম করে প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় লাল-সবুজের দল। বিরতির পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ দিকে আবারও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণ। তাতে ফারহান আলী ওয়াহিদ ও শাহরিয়ার ইমনের গোলও বড় হার এড়াতে পারেনি টমাস ডুলির দল। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিফা আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৯ গোল হজম করলেও ২ গোল করায় পুরনো সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ডে নাম লেখাতে হয়নি তাদের।
১৯৭৫ সালে মারদেকা কাপে হংকংয়ের কাছে ৯-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে এবং ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে ৯-০ গোলে পরাজয়ের মুখ দেখেছিল লাল-সবুজের দল। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৬ গোল হজমের পর তাই সেই পুরনো দুঃস্মৃতিই ফিরে এসেছিল।
১১ মিনিটে রোমেনি ওলের কাটব্যাক থেকে মিচেল লি বাকেরের শটে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ২০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সেই লি বাকেরই। রোমেনি ওলের শট প্রথম দফায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। রাগনার ওরাতমাংগোনের শটও প্রতিহত করেন তিনি। তবে জটলার মধ্যে থেকে ব্যাকহিলে বল জালে পাঠান লি বাকের। ২৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শমিত সোমকে। তার জায়গায় নামেন সোহেল রানা। শমিতের অনুপস্থিতি পুরো ম্যাচেই অনুভব করেছে বাংলাদেশ। ৩২ মিনিটে রিজকি রিধোর গোলে ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে। তবে চার মিনিট পরই ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় বাংলাদেশ। সোহেল রানা সিনিয়রের লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন শুকি ইতোফুসা। তার ভাসানো বলে মাথা ছুঁইয়ে ইন্দোনেশিয়ার জালে বল পাঠান ইমন শাহরিয়ার। আসরটিতে বাংলাদেশের এটি ছিল প্রথম গোল। তবে ইমনের গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লি বাকের। ৪২ মিনিটে জাস্টিন হুবনারের লং পাস থেকে হেডে নিজের চতুর্থ গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হুবনারও গোলের খাতায় নাম লেখান। ফলে বিরতিতে ৬-১ গোলে পিছিয়ে থাকে বাংলাদেশ।
বিরতির পর ইন্দোনেশিয়া আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক শ্রাবণ বেশ কয়েকটি আক্রমণ প্রতিহত করেন। রোমেনি ওলের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিলও হয়। তবে ম্যাচের শেষ দিকে আবারও বাংলাদেশের রক্ষণে ধস নামে। ৯০ মিনিটে একটি গোল করে ইন্দোনেশিয়া। এরপর যোগ করা সময়ের ৭ মিনিটের মধ্যে আরও ২ গোল করেন স্বাগতিকরা। এর মধ্যে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে ব্যবধান কমান ফারহান আলী ওয়াহিদ। রাকিবের ক্রস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশের এমন হারে লজ্জিত সাবেক তারকা ফুটবলার আবদুল গাফফার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার বেশ কজন প্রবাসী ফুটবলার রয়েছে। যারা বিদেশি লিগে খেলে। বাংলাদেশেরও তাই। কিন্তু কি প্রমাণিত হলোÑ বাংলাদেশের প্রবাসীরা মানসম্মত নয়। ফেসবুকে দেখে ফুটবলার আনলে এমনটাই হয়। তাহলে বিদেশি কোচ ও প্রবাসী ফুটবলারদের পেছনে বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে লাভ কি বাংলাদেশের।’