দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য এক 'উগ্রবাদী পাইলট'কে দায়ী করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ওই পাইলট ফ্লাইটটিকে বিধ্বস্ত করানোর চেষ্টা করেছিলেন। খবর বিবিসি'র।
'ফ্লাইদুবাই'র ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটির দুজন পাইলটের মধ্যে একজন অপরজনকে ছুরিকাঘাত করেন এবং স্পষ্টভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত করার অপচেষ্টা চালান বলে অভিযোগ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটি পথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।
পরে এক বিশেষ ভাষণে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ‘ফ্লাইট এফজেড১০৭৩’ ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল।
আকাশে অবস্থানকালে হঠাৎ বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যেও দেখা যায়, ওই সময়ে আকাশপথের নির্ধারিত উচ্চতা থেকে বিমানটির হঠাৎ মারাত্মক পতন ঘটেছিল।
ককপিটে হামলাকারী পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে বিমানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও যাত্রীদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে একজন সাহসী যাত্রী এবং একজন ক্রু সদস্য দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করেন। তারা জীবন বাজি রেখে হামলাকারী পাইলটকে কাবু করতে সক্ষম হন। ফলে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী।
সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদ অবতরণের পরপরই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার উভয়েই গুরুতর আহত হয়েছেন। অবতরণের পরপরই তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাদের আঘাতের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে, উড়োজাহাজ সংস্থা 'ফ্লাইদুবাই' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্লাইট ডেক বা ককপিটে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও বিমানের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ রয়েছেন। পুরো ঘটনার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।