পনিটেল নিয়ে এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞাপন, মামলা করলেন হালান্ড

মাঠের পারফরম্যান্সের সুবাদে গোলমেশিন হিসেবে খ্যাতি কুড়ানোর পাশাপাশি আর্লিং হালান্ডের ট্রেডমার্ক পনিটেল বা চুলের ঝুঁটি একসময় তার আলাদা পরিচিতি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরুতে সেই চিরচেনা ঝুঁটি কেটে ফেললেও, পুরোনো সেই স্টাইলকে অনুমতি ছাড়াই বিমান সংস্থার বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করায় এবার নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে সোজা আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন এই ম্যানসিটি তারকা।

নরওয়েজিয়ান এয়ার শাটল এএসএ বিশ্বকাপ চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে, যেখানে একটি বিমানের ছবির ওপর ডিজিটাল প্রযুক্তিতে হালান্ডের সোনালী পনিটেল বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই বিজ্ঞাপনের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘আমরা এর চেয়ে বেশি নরওয়েজিয়ান কখনো অনুভব করিনি’। যদিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পোস্টগুলো মুছে ফেলা হয়।

আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হালান্ড এবং ব্রিটিশ ফার্ম ইয়র্ক প্রমোশনস লিমিটেডের পক্ষে শোজট ল ফার্ম অসলো ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আনুষ্ঠানিক সমন দাখিল করেছে। সংবাদমাধ্যম এএফপিকে পাঠানো এক ইমেইলে হালান্ডের আইনজীবী থমাস হাগেন স্পষ্ট করে বলেন, ‘মামলাটি ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বিমানের টিকিট প্রচারে হালান্ডের স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্যগুলোর অবৈধ ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত।’ 

এদিকে বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপকে অপ্রত্যাশিত বলে অভিহিত করা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র ক্যাথারিনা সোল্লি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘কেন আমাদের আদালতে টেনে নেওয়া হয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। নরওয়ের প্রায় সবার মতো আমরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাতীয় দলকে সমর্থন জানিয়েছিলাম।

একই সুরে বিমান সংস্থার প্রেস অফিসার ইভিন্ড হ্যামার মাইহর বলেন, ‘এটা লজ্জার যে উৎসাহমূলক পোস্টগুলোকে মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে আমরা আশা করি একটি যুক্তিসঙ্গত সংলাপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমাদের যৌথ ক্রীড়া হিরোদের সমর্থন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’

বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোরে লুন্ডের মতে, নরওয়ের মার্কেটিং আইন এবং ব্যক্তিত্ব সুরক্ষা আইনের অধীনে হালান্ডের আইনি অবস্থান বেশ শক্ত। আগামী ৯ অক্টোবর অসলো জেলা আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।