মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৮

ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় চারটি ড্রেজার ও একটি বাল্কহেডসহ আটজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আটক সাতজনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় অপর একজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম ইলিশা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা। এ সময় অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলনের অভিযোগে চারটি ড্রেজার ও একটি বাল্কহেডসহ আটজনকে আটক করা হয়।

অভিযানে ‘সালায়া’, ‘একতা’, ‘চরমোনাই’ ও ‘আল মদিনা’ নামের চারটি ড্রেজার এবং ‘এমভি ইমামা’ নামের একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার দুলারহাট থানার আহমদপুর গ্রামের রুবেল (২৭), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের চর মিঠুয়া গ্রামের রিপন (২৫), ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া গ্রামের নোমান মিয়া (২২), একই এলাকার ইয়ামিন (১৬), উত্তর ইলিশা গ্রামের মো. আব্বাস (৩৮), বরিশালের বাকেরগঞ্জের শিয়ালগনি গ্রামের পরশ মনি হাওলাদার, বরিশাল কোতোয়ালি থানার বিমানবন্দর এলাকার সুমন হাওলাদার ও একই এলাকার মো. খলিল।

পরে ভোলা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি আটক সাতজনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ইয়ামিনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। নদীর তীরবর্তী মানুষের ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।