বাঁশখালীর উপকূল দিয়ে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচার, ৪৯৬ ব্যাগ উদ্ধার

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বঙ্গোপসাগরঘেঁষা উপকূল দিয়ে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন স্থান থেকে সিমেন্ট সংগ্রহ করে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে সমুদ্রপথে পাচারের জন্য মজুত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের দুটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা ৪৯৬ ব্যাগ সিমেন্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ১২ নম্বর ছনুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খুদুকখালী এলাকার ১ নম্বর পাড়া ও মোহাজের পাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জন পালিয়ে যান। উদ্ধার করা সিমেন্টের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুভাষ পাল সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে প্রথমে খুদুকখালীর ১ নম্বর পাড়ায় অভিযান চালান। সেখানে নুরুল কবিরের বসতঘর থেকে সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। পরে একই ইউনিয়নের মোহাজের পাড়ায় জাহাঙ্গীর আলমের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে আরও সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন স্থান থেকে সিমেন্টের বস্তা সংগ্রহ করে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সিমেন্ট মজুত করেছিলেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে নুরুল কবির (৫৮), মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), মো. ইসমাইলের ছেলে আব্দুল আলিম (৩৬), নুরুল কবিরের ছেলে আকবর (৩৬) এবং মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে আব্দুল মতলব (৫২)। তাঁরা সবাই উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনও পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানার এসআই সুভাষ পাল বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে বাঁশখালী থানাধীন বাংলাবাজার ঘাটসংলগ্ন এলাকায় একটি ফিশিং বোটে অভিযান চালিয়ে ৫১০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ ব্যাগ সিমেন্টসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে বাঁশখালী থানা-পুলিশ।

অল্প সময়ের ব্যবধানে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট উদ্ধারের ঘটনায় বাঁশখালীর উপকূলীয় জলপথ ব্যবহার করে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের মতে, বাংলাবাজার ঘাট, ছনুয়া ঘাট, খানখানাবাদ ও বড়ঘোনা জেটিঘাটসহ উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নৌপথে সিমেন্ট পাচারের চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।

একাধিক দফায় সিমেন্ট উদ্ধারের ঘটনায় এসব পাচারের নেপথ্যে কোনো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বাঁশখালীর বিস্তৃত উপকূলীয় সমুদ্রাঞ্চল চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করে এসব পাচারকাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাচারকারীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের বাইরে সিমেন্ট পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৯৬ ব্যাগ সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।