ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার একটি জুলাই হত্যা মামলায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত সচিব ডা. সাইফুল ইসলামকে আসামি করা হয়। তবে মামলার প্রাথমিক তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
গত বছরের ৯ নভেম্বর মামলাটি উত্তরা পশ্চিম থানায় করা হয়। এতে দন্ডবিধির ৩০২, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ডা. সাইফুল ইসলামসহ ২৯৩ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনকে আসামি করা। তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, ডা. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক কোনো সাক্ষ্য বা তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১৭৩(এ) ধারার বিধান অনুযায়ী তাকে মামলা থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের একটি স্মারক এবং উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের আদেশের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মিয়া বলেন, আসামিপক্ষ অব্যাহতির জন্য আবেদন করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে হত্যা মামলার ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাকে প্রাথমিকভাবে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। ডিএমপি থেকেও এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে আদালত থেকে অব্যাহতির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে ‘সাময়িক অব্যাহতির কথা বলা হয়েছে। ফলে এটি মামলা থেকে চূড়ান্ত অব্যাহতি বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনার বিষয়।
ভুক্তভোগী ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলা তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা কিংবা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত সংস্থা। তদন্তের ভিত্তিতেই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. সাইফুল ইসলামের বলেন, তদন্তে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাকে ‘হত্যা মামলার আসামি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে প্রকৃত তথ্যের বিকৃতি ঘটতে পারে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের প্রতিবেদনের কারণে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মামলার বিষয়ে বাদী আবু নাসের হামজা বলেন, ডা. সাইফুল ইসলামকে চেনেন না। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক বছর তিন মাস পর মামলা করা হয়েছিল। তবে মামলার ঘটনার সময়, অভিযোগের পটভূমি এবং অন্য আসামিদের সঙ্গে ডা. সাইফুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে কী কী তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।