ভেজাল বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার

ভেজাল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট বিক্রি ও ব্যবহারের প্রভাব কেবল একটি ইঞ্জিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। নাগরিক থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, ভোক্তা, উদ্যোক্তা, পরিবেশবাদী, বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ মেকানিক সবাই মিলে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য।  সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন প্ল্যান্ট ও অনেক আমদানিকারক ভেজাল নিম্নমানের লুব্রিকেন্টের প্রধান উৎস। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী এসব প্রতিষ্ঠান না মানে আন্তর্জাতিক মানদ- (এপিআই, এসএই), না আছে পরিবেশ ছাড়পত্র। তারা রাষ্ট্রকে সঠিক কর ও শুল্কও দেয় না।

এমন প্ল্যান্ট ও আমদানিকারকদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সমন্বিত অভিযান দরকার। তাদের বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল, প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ ও দোকান সিলগালা করাসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমদানি পর্যায়ে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক ল্যাব ও মূল উৎপাদকের সনদ যাচাইসহ কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং শুল্কায়নে কড়াকড়ি করা দরকার। তাদের পণ্য বিক্রি বন্ধে নিয়মিত বাজার তদারকি দরকার। আইনের ব্যত্যয় ঘটালে চড়া জরিমানা ও জেলসহ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট, বেসঅয়েল ও এডিটিভ আমদানি, বিপণন ও বিক্রির নেটওয়ার্কে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের সরবরাহ চেইন ভেঙে দেওয়া দরকার। ভেজাল মেশানোর সুযোগ বন্ধের জন্য মানসম্পন্ন উৎপাদক ও আমদানিকারকের নিজস্ব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা দরকার। বোতলের গায়ে নকল প্রতিরোধক হলোগ্রাম, কিউআর কোড ও স্ক্র্যাচকার্ড যুক্ত করা দরকার; যার মাধ্যমে ভোক্তা সহজে পণ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। ভোক্তা ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচার এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে মেকানিকদের লুবিক্রেন্টের গুণগত মান সম্পর্কে ধারণা দিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার।