রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে তিন মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ডেমরা এবং বংশাল এলাকা থেকে গৃহিণী ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিসহ মোট তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার পৃথক সময়ে ঘটনাগুলো ঘটে। গতকাল শুক্রবার আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহতরা হলেনÑ কামরাঙ্গীরচরে স্বপ্না বেগম, ডেমরায় পপি এবং বংশালে হাশেম। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, তারা প্রত্যেকেই আত্মহত্যা করেছেন।

কামরাঙ্গীরচরে গৃহিণীর আত্মহত্যা : গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর ঝাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বপ্না বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী অটোচালক খাজা জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বপ্না শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন সন্তানরা বাইরে থাকার সুযোগে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। বাড়ির ম্যানেজার ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেমরায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার : একই দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘আমার ভুবন’ ভবনের ১১ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পপি নামের চার সন্তানের জননী এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গোসলের কথা বলে বাথরুমে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ সাড়া না দেওয়ায় স্বজনরা দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে বাথরুমের হ্যাঙ্গারের সঙ্গে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার দেহ ঝুলতে দেখা যায়। নিহত পপি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নন্দলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ডেমরা থানার এসআই মাহবুর রহমান জানান, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বংশালে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির আত্মহত্যা : রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল থানাধীন নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় হাশেম  নামের এক মানসিকভারসাম্যহীন ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাজিম উদ্দিন রোডের একটি ছয়তলা ভবনের চারতলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের ছেলে হাসিব জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। রাতে ফুপুর বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।