স্তেদ দি ফ্রান্সে কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের হোম অভিষেকটা পুরোপুরি জয়ে রাঙাতে দিল না ইতালি। নেশনস লিগের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফ্রান্স আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার একের পর এক দুর্দান্ত সেভ এবং ইতালির সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের কারণে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় লেস ব্লুসরা। মাইকেল ওলিসে ফরাসিদের এগিয়ে নেওয়ার পর বাস্তোনির গোলে সমতা ফেরায় আজ্জুরিরা।
১৯৯৮ সালের সোনালী স্মৃতিবিজড়িত এই স্টেডিয়ামে 'জিজু'র প্রত্যাবর্তন যেমন আবেগ ছড়িয়েছিল, তেমনি মাঠের লড়াইয়ে ইতালির লড়াকু মানসিকতাও ম্যাচটিকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে ফ্রান্স। তবে প্রথমার্ধে ফরাসিদের একের পর এক আক্রমণ দারুণ দক্ষতায় রুখে দেয় আজ্জুরিদের রক্ষণভাগ। ডেডলক ভাঙে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে; রায়ান শেরকির শর্ট ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে চমৎকার এক কার্লিং শটে ক্রসবারের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন মাইকেল ওলিসে।
তবে সেই স্বস্তির লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে ফরাসি রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে যান ইতালির ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, যিনি বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে সফরকারীদের সমতায় ফেরান (১-১)। এরপরেও ফ্রান্স জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ইতালীয় গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা রাবিওট, দেম্বেলে ও কামাভিঙ্গার বুলেট গতির শটগুলো অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দলের পয়েন্ট নিশ্চিত করেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স।
ফরাসি ডাগআউটে এটি ছিল জিদানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, আর প্রতিপক্ষ ইতালি হওয়ায় ম্যাচটি স্বাভাবিকভাবেই ফিরিয়ে এনেছিল ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পুরোনো স্মৃতি। ম্যাচ শুরুর আগে স্তাদে দি ফ্রান্সের গ্যালারি ফেটে পড়েছিল “জিজু, জিজু” ধ্বনিতে। ঘরের মাঠে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার পর ম্যাচ শেষে কাঙ্ক্ষিত জয় না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও শিষ্যদের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন ফরাসি কোচ।
ম্যাচ শেষে ফরাসি টিভি চ্যানেল টিএফ১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিদান নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আমার ভীষণ খারাপ লাগছে, কারণ আমরা এর চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। তবে তাদের প্রচেষ্টা, প্রেসিং এবং পরিশ্রমের জন্য আমি তাদের নিয়ে গর্বিত, তারা ছিল অনন্য।’
অন্যদিকে, ফ্রান্সে মাঠে এমন কঠিন লড়াইয়ের পর মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় বেশ সন্তুষ্ট ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনি। ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম রাই-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মানচিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে তাদের আক্রমণগুলোকে আমরা দারুণভাবে সীমিত রাখতে পেরেছি, যদিও তাদের পায়ে বলের দখল কিছুটা বেশি ছিল।’
এই ড্রয়ের পরও নেশনস লিগের গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান ধরে রাখল ফরাসিরা। তবে রাতের আরেক ম্যাচে বেলজিয়াম তুরস্কের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জেতায় তালিকার তিনেই থাকতে হচ্ছে আজ্জুরিদের।