অন্য দলগুলো যখন তরুণ ও দ্বিতীয় সারির ক্রিকেটারদের মিশেলে দল গঠন করেছে সেখানে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই এশিয়ান গেমসে গিয়েছিল বাংলাদেশ। স্বপ্নটা ছিল স্বর্ণপদকের। তবে পারফর্মের নির্মম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন রূপ নিয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর, ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার খর্বশক্তির দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষেও শোচনীয় পরাজয় দেখল লিটন দাসের দল।
টুর্নামেন্টজুড়ে চরম হতাশার এই ব্যর্থতার পর আর কোনো রাখঢাক নয়; বরং পুরো দলের হয়ে দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিলেন এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
জাপানের নিশিনেতে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কোচ সালাউদ্দিন। দলের এমন শোচনীয় পরাজয় ও ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের ফর্মহীনতা এবং প্রথম ওভারে রান দেওয়ার সমালোচনা প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আসলে মুস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’
এছাড়া দলের সামগ্রিক ব্যাটিং বিপর্যয় এবং খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ আরও যোগ করেন, ‘প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’
অধিনায়ক লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে সমালোচনা হয়ে সবচেয়ে বেশি। দুই ম্যাচে করেছেন কেবল ২ রান, যার মধ্যে আজকের ম্যাচে শূন্য। এতে লিটনসহ দলগত পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নে সালাউদ্দিন খেলোয়াড়দের পাশেই দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের শত সীমাবদ্ধতার বিপরীতে ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির পরও এশিয়ান গেমস থেকে এমন খালি হাতে ফেরা দেশের ক্রিকেটে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। কোচের এই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ব্যর্থতার দায় স্বীকার এবং দলের ভেতরের চিত্র তুলে ধরার মধ্য দিয়ে অন্তত এটি স্পষ্ট যে, এই টুর্নামেন্টের প্রাপ্তি কেবলই হতাশার।