‘যুবকেন্দ্রিক শ্রমিক অধিকার-কর্মী বাংলাদেশ’র আলোচনা সভা

কর্মসংস্থান হারানো পোশাক শ্রমিকদের পাশে থাকার আহ্বান

অধিকার-কর্মীভিক্তিক প্লাটফর্ম যুবকেন্দ্রিক শ্রমিক-অধিকারকর্মী বাংলাদেশ (ইয়ুথ-ফোকাস লেবার এক্টিভিস্ট বাংলাদেশ) এর  উদ্দ্যোগে এক আলোচনা সভা রাজধানীর বিজয়নগরে মোসাদ্দেক হোসেন স্বপন হলে শুক্রবার( ২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়। ‘শ্রমখাতে কর্মসংস্থান হারানো পোশাক শ্রমিকদের পাশে যুব নেতৃত্ব : উদ্যোগ ও করণীয়’ শীর্ষক ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্টজনরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্লাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্লাটফর্মটির উপদেষ্টা মোনাস ইউনিভার্সিটি, অট্রেলিয়ার অধ্যাপক ফারিন আলমগীর। অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিল প্লাটফর্মের অন্যতম নেতা জাহানারা ইমাম মো: মোস্তফা,  মো. বায়েজিদ হোসেন, শাহরিয়ার নাফিজ, ফখরুল আলম সৌখিন, মো. শরীফ প্রমুখ।

তরুণ বা যুব শ্রমিক-অধিকারকর্মী ভিত্তিক এই সংগঠনের মুল প্রতিপাদ্য দেশের যুব শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা, শ্রম সচেতনতা তৈরীতে সহায়ক ভুমিকা, সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশের সুযোগ বৃদ্ধি ও শ্রমঅসন্তোষ নিরসন করা। যুবকেন্দিক এই প্লাটফর্মটি ইতিমধ্যে জিএসপি প্লাস বাতিলরোধে কারখানা শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিদের ভুমিকা, ট্রেড ইউনিয়ন-কর্মীদের দক্ষতাবৃদ্ধি শীর্ষক সভা ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। 

সভার সভাপতি প্লাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান চৌধুরী তার বক্তব্যে পোশাক শিল্পে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে শ্রমবাজারে নানা জটিলতার কারণে যেমন কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা বেকার হয়ে কর্মসংস্থান হারাচ্ছে তেমনি পরবর্তীতে নানাবিধ সংকটের কারণে তারা পুনরায় তারা চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না, বেকার হয়ে পড়ছেন।

বিজিএমইএর ১৭ সেটেম্বর প্রেস বিফ্রিংয়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের ৩১টি কারখানা বন্ধ হয়ে ১৪ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, অন্যদিকে ৫৩টি নতুন কারখানা চালু হওয়ার ২৪ হাজার কর্মী নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। তবুও সার্বিক বিবেচনায় কর্মসংস্থানের হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের দিকে আশু জোর দেয়া প্রয়োজন। সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি এবং আমাদের এই প্লাটফর্ম থেকে আমরা শ্রমিক- অধিকারকর্মীগন একসাথে শ্রমিকের পাশে তাদের সহায়ক হিসেবে থাকা দ্বায়িত্ব বলে মনে করি। 

এ সময় বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ফারিন আলমগীর বলেন, তিনি  জুট ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে গবেষণামুলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের জীবনযাত্রার নানা সমস্যার কথা জানতে পেরেছেন, যা সঠিক প্রতিনিধিত্বমুলক চর্চা হলে সমাধানযোগ্য। এছাড়াও শ্রমিক প্রতিনিধিরা মালিককের সাথে সামাজিক সংলাপের মাধ্যম তৈরী করতে পারলে মালিকরা শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে নিজে থেকে ভুমিকা রাখবে বলে তিনি মতবাদ প্রকাশ করেন।