নেত্রকোনা সীমান্তে ৯ মাসে ১২ কোটি টাকার চোরাই পণ্য ও মাদক জব্দ

নেত্রকোনা সীমান্তে গত ৯ মাসে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ১২ কোটি ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের এসব মালামাল আটক করা হয়।

শনিবার (০৩ অক্টোবর) দুর্গাপুরের বিজয়পুর সীমান্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও এক প্রেস নোটে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ৩১ বিজিবির অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, উদ্ধার করা চালানের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, স্কাফ সিরাপ, বিয়ার, গাঁজা, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, কসমেটিকস, পোশাক, গবাদি পশু, কয়লা, চিনি, ওষুধ, জিরা, সুপারি, রসুন এবং নানা জাতের মাছ ও মাছের পোনা।

জব্দকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে ৩ হাজার ১৯০ বোতল ভারতীয় মদ, ২৪০ বোতল ফেনসিডিল, ৪২৮ পিস ইয়াবা, ৬০ ক্যান বিয়ার, ৬৫ বোতল স্কাফ সিরাপ, ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৮৪ পিস অন্যান্য মাদকের ট্যাবলেট। এসব মাদকের চালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়।

এছাড়া গত ৯ মাসে সোমেশ্বরী নদীর ভবানীপুর ও বিজয়পুরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের কয়লা এবং ৭৩ লাখ ২৬ হাজার ১৩০ টাকা মূল্যের অন্যান্য মালামাল আটক করেছে বিজিবি।

হিসাব অনুযায়ী, ৯ মাসে বিজিবির জব্দ করা মালামালের মধ্যে ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ টাকার মাদক এবং ১১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৪ টাকার চোরাচালানি পণ্য রয়েছে। এসব পৃথক অভিযানে সর্বমোট ১৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সীমান্তে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত দুর্ঘটনা, চোরাচালান এবং নারী ও শিশু পাচার বন্ধে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্গাপুরের বিজয়পুর ও ভবানীপুরের সোমেশ্বরী নদীপথ ব্যবহার করে রাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং বিএসএফের ফায়ারিং বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চোরাচালান বন্ধে বিএসএফের সাথে সমন্বয় করে যৌথ টহল বৃদ্ধি, চোরাকারবারীদের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে ভবানীপুরসহ সীমান্ত এলাকায় সভা পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া নদীপথের চোরাচালান মনিটর করতে সোমেশ্বরী নদীর দুই তীরে সিসি ক্যামেরা ও শক্তিশালী হ্যালোজেন লাইট বসানো হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এলাকাগুলোতে উঠান বৈঠক ও মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে অবৈধ সীমান্ত পারাপার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ৩১ বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সর্বপ্রকার চোরাচালান, নারী-শিশু পাচার ও সীমান্তসংক্রান্ত অবৈধ কর্মকাণ্ড রুখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ৯ মাসে মদ, বিভিন্ন মাদক, পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, গবাদি পশুসহ আনুমানিক ১২ কোটি ২০ লাখ টাকার মালামাল আটক করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে এসব মালামাল জব্দের পাশাপাশি গত ৫ মাসে মোট ১৭ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পুশ-ইন ও চোরাচালান বন্ধে বিজিবির তৎপরতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে। এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে যেন সবাই বিরত থাকে, সাংবাদিকদের মাধ্যমে সেই আহ্বান জানান তিনি।