৯ মাসে ৪৫ লাখ টাকা আদায় ও ৫৫৫ মামলা নিষ্পত্তি

আদালতের চৌকাঠে মামলা গড়ানোর আগেই আপস-মীমাংসার সুযোগ করে দিয়ে সাফল্য পাচ্ছে ভোলার বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম। এই উদ্যোগের ফলে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আইনি ভোগান্তি কমছে। একই সঙ্গে আদালতে নতুন মামলার চাপ কমানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে ‘পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩’ এবং ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১’-সহ মোট ৯টি আইনের অধীনে এ বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়। এই উদ্যোগের অধীনে আগস্ট মাসে ১০০টি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২২৫টি অভিযোগের সফল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৩১ লাখ টাকার আর্থিক বিরোধের সমাধান হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত কার্যক্রমে বিভিন্ন বিরোধ সংক্রান্ত মোট ৫৫৫টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এসব বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। এই নির্দিষ্ট সময়ে ১ হাজার ১১৫ জন সাধারণ মানুষ আইনগত সহায়তা পেয়েছেন এবং ১ হাজার ১৯০ জন ব্যক্তি গ্রহণ করেছেন আইনি পরামর্শ।

ভোলা জেলা লিগ্যাল এইডের এই সামগ্রিক কার্যক্রম সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান শরীফ এ. এম. রেজা জাকেরের সার্বিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন ও জেলা পর্যায়ে চমৎকার সমন্বয় সাধনে মূল ভূমিকা পালন করছেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) শহিদুল ইসলাম।

তৃণমূল ও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মেটাতে চলতি বছর ৯টি মাসিক সভা এবং ৫টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে প্রায় এক ডজন জমি সরেজমিনে পরিদর্শন ও সঠিক মাপজোকের মাধ্যমে সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনগত সহায়তার তথ্য ও সেবা সর্বসাধারণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী প্রচারমূলক পদক্ষেপ। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানোর পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে চালানো হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ভোলায় প্রায় ৭০০ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রক্তদান কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি কারাগারেও আয়োজন করা হয় আইনগত সচেতনতামূলক বিশেষ সভা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করার পূর্বেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি, আর্থিক খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দ্রুত সমাধান আসায় বিচারব্যবস্থায় মামলার অতিরিক্ত জট কমাতেও এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।