ব্লেজার পরে টস, মাথায় ব্যাগি ক্যাপ। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টের নতুন যুগের শুরুটা এমনই দৃশ্য দিয়ে। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৮তম মৌসুমের উদ্বোধনী দিনটা ব্যক্তিগতভাবে কেউই রাঙাতে পারেননি। ৪টি ভিন্ন ম্যাচে ৭ জন ব্যাটসম্যান অর্ধশতক করলেও তিন অঙ্কের দেখা পাননি তারা। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯২ রানের ইনিংস খেলেন খুলনার বিভাগের ব্যাটার কালাম সিদ্দিকী। বিবর্ণ ছিলেন বোলাররাও, বিশেষ করে পেসাররা। সব মিলিয়ে ২৪টি উইকেট পড়ে। যেখানে ১১টি পেয়েছেন তারা।
মূলত বল পরিবর্তন ও মন্থর উইকেটের জন্যই পেসাররা সুবিধা পাচ্ছেন না বলে করেন ঢাকা বিভাগের একজন পেসার। টানা ৫ মৌসুম পর এবার ডিউক থেকে কোকাবোরা বলে এনসিএল মাঠে গড়িয়েছে। ডিউক বলে খাড়া সিমের কারণে সুবিধা পেতেন পেসাররা। এর সঙ্গে ৬ মিলিমিটার ঘাস থাকত উইকেট। এবারের উইকেট নিয়ে আক্ষেপ করে এই পেসার বলেন, ‘৩ মিলিমিটারের মতো ঘাস আছে। কিন্তু উইকেট বেশ নরম। বল ফেললে থেমে যাচ্ছে। বাউন্স পাওয়া যাচ্ছে না। এই উইকেটে খেলা খুব কষ্টকর। আজই স্পিনাররা কিছুটা সুবিধা পেয়েছে।’
এজন্য পেসারদের আরো ধৈর্য্য ধরতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিভাগের প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল, ‘এখানে (মিরপুর) এবং আরও তিন-চারটি মাঠে যা হয়েছে দেখলাম। উইকেটে ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো করছে, বোলাররা ততটা কার্যকর হচ্ছে না। তবে আমার বলার বিষয় হলো, আমি দেখলাম আমরা যদি ভালো লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বল করে যাই, আমার মনে হয় এখানেও সফল হওয়ার সুযোগ থাকে। এখানে বোলারদের আরও ধৈর্য সহকারে বল করার একটা শিক্ষা তারা নিয়েছে এবং এই অনুযায়ী তারা হয়তো পরের ম্যাচগুলোতে বল করবে।’
জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াই শুরু হয়েছে এবারের এনসিএল। লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়রা এশিয়াম গেমস খেলতে জাপানে আছেন। মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হকরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন। এর বাইরে একাধিক ক্রিকেটার চোটের সঙ্গে লড়ছেন। এনসিএলে তারকা ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি নিয়ে বাবুল বলেন, ‘এটা তো স্বাভাবিক। জাতীয় দলের ব্যস্ততা থাকবে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা অন্য জায়গায় খেলবে, এটাই তো নিয়ম। তারা যখন অবসর পাবে, তারা এখানে আবার অংশ নেবে। এভাবেই তো হয়ে আসছে। আর তারা না খেললে অন্যদের সুযোগ বাড়ছে। ফলে প্রতিভার পাইপলাইনে আরও খেলোয়াড় আপনি দেখতে পারবেন। টুর্নামেন্ট তার জায়গায় থাকবে, জাতীয় দলও তার জায়গায় থাকবে। এভাবেই সব চলবে।’
মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে মাঠে নামা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের জন্য দিনটি ছিল বেশ কঠিন। চোট ও জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত একাধিক ক্রিকেটারকে পায়নি দলটি। এর মধ্যেও দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মোসাদ্দেক ফিফটি তুলে নেন। তবে তাদের ভালো শুরুর পরও রংপুর বড় সংগ্রহের পথে এগোতে পারেনি। প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ২২৯ রান করেছে তারা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহীও শুরুটা পেয়েছিল দারুণ। চট্টগ্রামের বিপক্ষে দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও সাব্বির হোসেন ফিফটি তুলে নেন। প্রথম উইকেটে ১১৪ রান যোগ করেন তারা। সোহান ৭৫ রানে ফিরলেও সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ৭১। এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে না পারায় দিন শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২৮৯ রান।
দিনের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ অবশ্য খুলনার। বরিশালের বিপক্ষে প্রথম দিনেই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও তরুণ ব্যাটসম্যান কালাম সিদ্দিকী। দুজনের ব্যাটেই বড় রানের ভিত তৈরি হয়। কিন্তু তিন অঙ্কের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি কারও। মিঠুন ৮৯ এবং কালাম ৯২ রানে আউট হন। দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে খুলনা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের দিনটি ছিল তুলনামূলক কঠিন। সিলেটের বিপক্ষে ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ছাড়া আর কেউ ফিফটির দেখা পাননি। দিনের শেষ দিকে আবু হায়দার রনি ৪৬ রানে অপরাজিত থাকায় অলআউটের শঙ্কা এড়ায় ময়মনসিংহ। প্রথম দিন শেষে ৭ উইকেটে ২৭৩ রান করেছে তারা।