জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: রাশেদ খান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি জানান, আন্দোলনের শহীদদের পরিবার এবং আহতদের সার্বিক সহযোগিতায় পাশে রয়েছে সরকার।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা যাতে কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি সরকারের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২০২৪ সালের ৩৬ দিনের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের সফলতা বাস্তবায়নে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তারেক রহমানের নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমেদ আন্দোলনের সঠিক সমন্বয় সাধন করেছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিবাদ-সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনায় শিশুসহ সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া উক্ত সময়ে হাজার হাজার মানুষ আহত হন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে রাশেদ খান শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত সম্পন্ন করেন এবং নিহত শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, মা জোসনা আক্তারসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বাবা-মায়ের কবরও জিয়ারত করেন।

কক্সবাজারে আগমন উপলক্ষে রাশেদ খানকে বরণ করে নিতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মোটর শোভাযাত্রার আয়োজন করেন এবং তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় ভূষিত করেন।

উক্ত কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন, যুবদল সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট, পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনচারি, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আহসানউল্লাহ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্যসচিব মওলানা সানাউল্লাহ নুরী এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয় ও সদস্যসচিব আবুল কাশেম নূরীসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।