শামুকের জৈবযুদ্ধে মুক্তার জন্ম

মুক্তার সৌন্দর্য মানুষকে আকৃষ্ট করে। শামুকের দেহে ‘মুক্তা’ তৈরির বিষয়টি জটিল  জৈবিক যুদ্ধের নাম। মূলত নিজ শরীরকে আঘাত বা ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষার আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে একসময় পাওয়া যায় মুক্তা। শামুক নিজেকে রক্ষার জন্য শক্তিশালী খোসার মধ্যে বাস করে, যাকে ‘ঝিনুক’ বলে। অসংখ্য ঝিনুক খোসার মধ্যে ২/১টিতে ছিদ্র থাকে। তখন বালুকণা ঝিনুকের ভেতর যায়। ঝিনুকের অভ্যন্তরে থাকা বালির কণা যখন শামুকের মধ্যে বিক্রিয়া করে, তখন তা থেকে চর্বিযুক্ত চকচকে তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়। যাকে বলা হয় ‘মাদার অব পার্ল’। এটি মূলত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এবং প্রোটিন মিশ্রণ। এরপর শামুকটি অবিরামভাবে কণার চারপাশে নেকারের প্রলেপ দিতে থাকে। বছরের পর বছর হাজার হাজার স্তরের প্রলেপ পড়ার পর সেই বালুকণা বা পরজীবী শক্ত, চকচকে ও মূল্যবান বস্তুতে পরিণত হয়, যাকে আমরা ‘মুক্তা’ বলি। প্রাকৃতিকভাবে কোনো কণা শামুকের শরীরে ঢুকলে এই প্রক্রিয়া ঘটে। এটি খুব বিরল, তাই এর দাম অনেক বেশি। কৃত্রিমভাবে ঝিনুকে নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপনের পর মুক্তা তৈরিতে প্রায় ১২-২৪ মাস প্রয়োজন। এর চাষ অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা, যেখানে কম খরচে দ্বিগুণ বা এর বেশি লাভ পাওয়া যায়। প্রসাধন, পোশাক ও ওষুধ শিল্পে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রাকৃতিক বড় আকারের সমুদ্রের মুক্তার দাম শত কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তবে চাষ করা মুক্তার সাধারণ দাম ৩০০-১৫০০ টাকা।