সুরা দোহায় সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। এতিমের প্রতি সদাচরণ, সাহায্যপ্রার্থীকে অপমান না করা এবং আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে এই সুরায় স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
এতিমের প্রতি সদাচরণ : মহান আল্লাহ বলেন, ‘এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না।’ (সুরা দোহা ৯) এতিম শিশুর জীবনে অভিভাবকের অনুপস্থিতি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করে। তাই তাদের প্রতি অবহেলা, কঠোরতা বা অন্যায় আচরণ ইসলাম সমর্থন করে না। বরং তাদের নিরাপত্তা, অধিকার, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব।
সাহায্যপ্রার্থীকে অপমান না করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দিয়ো না।’ (সুরা দোহা ১০) মানুষের প্রয়োজন সব সময় এক রকম থাকে না। কেউ অর্থের অভাবে সাহায্য চাইতে পারে। কেউ জ্ঞান বা পরামর্শের জন্য কারও কাছে যেতে পারে। আবার কেউ নিজের কোনো প্রয়োজনের কথা জানাতে পারে। তার প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব না হলেও তাকে অপমান করা যাবে না। সুন্দর কথা বলা এবং সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া ইসলামের উত্তম শিক্ষা।
আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের নেয়ামতের কথা প্রকাশ করো।’ (সুরা দোহা ১১)
মহান আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত স্বীকার করা, তার শুকরিয়া আদায় করা এবং সেই নেয়ামত কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা জরুরি। কেউ সম্পদ পেলে অভাবীর পাশে দাঁড়াবে। জ্ঞান লাভ করলে মানুষকে উপকৃত করবে। মর্যাদা পেলে দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষা করবে।
এই সুরা মানুষকে মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়। এতিমকে অবহেলা না করা, সাহায্যপ্রার্থীকে অপমান না করা এবং আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি দেওয়া সুন্দর সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একজন মুমিন নিজের জীবনে আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করবে এবং সেই অনুগ্রহের প্রভাব অন্য মানুষের জীবনেও পৌঁছে দেবে।
লেখক : ইসলামি গবেষক