হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি (করোনারি আর্টারি) যখন চর্বি বা কোলেস্টেরল জমে সংকুচিত হয়ে যায়, তখন হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা তৈরি হয়।
এর ফলে বুকে ব্যথা এনজাইনা বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এই সংকুচিত ধমনি খুলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই ব্যবহার করা হয় স্ট্যান্ট।
স্ট্যান্ট হলো ধাতব জালির মতো ছোট একটি নল, যা এনজিওপ্লাস্টি নামক পদ্ধতির মাধ্যমে সংকুচিত ধমনির ভেতরে স্থাপন করা হয়। প্রথমে ক্যাথেটার নামক একটি সরু নলের সাহায্যে বেলুনসহ স্ট্যান্ট আক্রান্ত স্থানে পৌঁছানো হয়, এরপর বেলুন ফুলিয়ে ধমনি প্রশস্ত করে স্ট্যান্ট স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়। এতে ধমনি খোলা থাকে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্ট্যান্ট সাধারণত দুই ধরনের বেয়ার মেটাল স্ট্যান্ট এবং ড্রাগ-এলুটিং স্ট্যান্ট। পরেরটিতে বিশেষ ওষুধের প্রলেপ থাকে, যা ধমনি পুনরায় সংকুচিত হওয়া রোধ করে। স্ট্যান্ট বসানোর পর রক্ত পাতলাকারী ওষুধ নিয়মিত সেবন জরুরি, যাতে স্ট্যান্টের ভেতরে রক্ত জমাট না বাঁধে। পাশাপাশি ধূমপান পরিহার, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন। সঠিক পরিচর্যায় স্ট্যান্ট রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেকাংশে উন্নত করতে পারে।