তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সাবলীল জাদুতে দর্শক হৃদয়ে একচ্ছত্র রাজত্ব করছেন নন্দিত অভিনেতা জাহিদ হাসান। মঞ্চ, ছোটপর্দা কিংবা চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই নিজের মেধা ও স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। আজ তার জন্মদিন। ১৯৬৭ সালের এই দিনে সিরাজগঞ্জ শহরে তার জন্ম। মা ভালোবেসে নাম রেখেছিলেন ‘পুলক’, আর দাদা নাম দেন ‘জাহিদ’।
শৈশব থেকেই নাটক ও যাত্রার প্রতি এক তীব্র টান অনুভব করতেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় সেই টান গভীর অনুরাগে রূপ নেয়। মা-বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে ডাক্তার হবে, কিন্তু তরুণ জাহিদের ধমনিতে তখন শুধুই অভিনয়শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন। অভিভাবকের অগোচরেই সিরাজগঞ্জের ‘তরুণ সম্প্রদায়’ নাট্যদলের সান্নিধ্যে আসা। জ্যেষ্ঠ নাট্যকর্মীদের মুখে শুনেছিলেন, যারা থিয়েটারকে ভালোবাসবে, হলরুম ঝাড়ু দেবে এবং অধ্যবসায়ী হবে, তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। কথামতো পুরো থিয়েটার হল নিজ হাতে মুছে রিহার্সালে মেতে থাকতেন তিনি।
অভিনেতা হওয়ার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে একসময় ঢাকায় পাড়ি জমান জাহিদ হাসান। শুরুতে পরিচিতজনদের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সহযোগিতা না পেলেও হতাশ হননি। নিজের আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমের জোরে যুক্ত হন ‘নাট্যকেন্দ্র’-এ। সেখানে কাজ শিখতে শিখতেই ভাগ্য খুলে যায়। নাট্যকেন্দ্রের জনপ্রিয় প্রযোজনা ‘বিচ্ছু’ টিভিতে প্রচারিত হওয়ার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
নব্বইয়ের দশকে কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছান জাহিদ হাসান। টেলিছবিতে ‘মফিজ’ চরিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকের মনে অমলিন। পরবর্তী সময়ে ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন’, ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’ ও ‘আজ রবিবার’ নাটকের মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের মন জয় করে নেন।
মঞ্চ ও ছোট পর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সমান সফল এই অভিনেতা। ১৯৮৬ সালে আব্দুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত ‘বলবান’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘আমার আছে জল’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘প্রজাপতি’, ‘হালদা’ ও ‘সাপলুডু’ চলচ্চিত্রে তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। সাম্প্রতিক সময়েও ‘উৎসব’ ও ‘আমলনামা’ সিনেমা এবং ‘পথহারা মন’ নাটকে অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন।
বিশেষ এই দিনে ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়ে জাহিদ হাসান বলেন, ‘সারা জীবন অভিনয়কেই ভালোবেসেছি। তবে এখন সংখ্যার চেয়ে কাজের মানটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো গল্প আর সম্মানজনক চরিত্র পেলে আজও আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।’