সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার ৭৯ নারী ও শিশু

গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২১ হাজতি ও কয়েদি মারা গেছেন। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, গত মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অভিযোগ তুলে ‘মব’ সহিংসতার মাধ্যমে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন নদী, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৬৯ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এইচআরএসএসের হিসাবে গত মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৯ কন্যাশিশু ও নারী। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় এইচআরএসএস।

বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজত ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে সারা দেশে কারাগারে কমপক্ষে ২১ জন আসামি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কয়েদি ও ১০ জন হাজতি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দুইজন এবং ১৯ জন সাধারণ কয়েদি ও হাজতি ছিলেন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে তিনজন নিহত হয়েছেন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন, যাদের মধ্যে ৪৭ (৬০%) জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। ১৩ জন নারী ও কন্যাশিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর পাঁচজন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে ২৭১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে সাত ছেলেশিশু।

সেপ্টেম্বরে সারা দেশে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকা-ের ৬৬টি ঘটনায় ৬৯টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১১টি, ঝুলন্ত অবস্থায় ২৪টি, শরীরে একাধিক আঘাতসহ আটটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গলা কেটে হত্যা ছয়টি, হাত-পা বাঁধা ৯টি লাশ পাওয়া গেছে। এর বাইরে নানা ধরনের পরিস্থিতিতে আরও ১১টি লাশ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত মাসে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে কোন্দল, অন্তর্কোন্দলের রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহতের তথ্য দিয়ে এইচআরএসএস বলছে, এসব ঘটনায় বিভিন্ন দলের ৫২৭ জনের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক, যৌথ অভিযান ও বিশেষ অভিযানে ২৮৭টি ঘটনায় অন্তত ২১ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত ১ হাজার ৬৬৫ জন, বিএনপির ৬২ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৩১ জন, এনসিপির একজন এবং উগ্রপন্থি সংগঠনের ২৪ জন সদস্য রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগবিত-া, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৫টি ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক নীপিড়ন ও নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ২০টি নির্যাতনের ঘটনায় কমপক্ষে ৩৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ১৬ জন।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অন্তত ১২টি ঘটনায় ১৪ জনকে আটক ও ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ২৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন।

সেপ্টেম্বরে শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ৮৮টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ১২১ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৬ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন।