রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের নতুন চালান

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান রূপপুর এসে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে সড়কপথে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রকল্প অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কন্টেইনার বোঝাই ৪টি লরি। এ জন্য ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়কে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ বিমান গত শুক্রবার রাত ১১.৪৪ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর খুব সকালে সড়কপথে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয় ইউরেনিয়ামবাহী লরিবহর। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে লরিগুলো রূপপুর প্রকল্পে প্রবেশ করলে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা দুদেশের জাতীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে স্বাগত জানান।

এই জ্বালানি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রূপপুরে প্রকল্প সাইটে আনার সময় ভিভিআইপি সমমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে বাস চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে এই জ্বালানি হস্তান্তর করা হবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের জ্বালানি প্রস্তুতকারী কোম্পানি টেভেলের একটি প্রতিষ্ঠান নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্ট (এনসিসিপি) রূপপুরের এই জ্বালানি উৎপাদন করেছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার বলেন, ঈশ্বরদীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়ামের চালান নিয়ে আসা হয়। ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ও দাশুড়িয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান এসে রূপপুরে পৌঁছে। এরপর অক্টোবরের ৬, ১৩, ২০ ও ২৭ তারিখে আসে চারটি চালান। ৩ নভেম্বর আসে ষষ্ঠ চালান এবং সর্বশেষ সপ্তম চালানটি আসে ১০ নভেম্বর।

উল্লেখ্য, দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বড় প্রকল্প ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। রাশিয়া থেকে ঋণ সহায়তা পেয়েছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। আগামী বছর পুরোদমে প্রকল্পটি চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।