বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ফ্রান্স গ্রেপ্তার প্রায় ২ হাজার

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। শিক্ষক আর শ্রেণিকক্ষের সংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং তহবিল বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে দেশটির সাতশর বেশি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রাজপথে নেমেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত শুক্রবার বিভিন্ন শহরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ থেকে প্রায় দুই হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফ্রান্সের আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসে এই বিক্ষোভের শুরু হয়। পরে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে মঁ পেলিয়ে, নঁত ও মার্সেই রয়েছে।

দারমানিন বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এখন জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যখন মানুষ বাসে হামলা চালায় এবং স্কুলে আগুন দেয়, তখন সেটি আর শুধু বিক্ষোভের বিষয় থাকে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভে সক্রিয় ও সহিংস একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী অংশ নিচ্ছে। তারা আদৌ উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কি না, তা নিয়েও আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই।’ ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, ‘আমরা দাঙ্গা আর নগর সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এটি বন্ধ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা কিছু সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পেট্রোলবোমা, কুঠার ও আতশবাজি রয়েছে। ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে তাদের অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, শুক্রবার চার শতাধিক স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের বেলফোর শহরে বিক্ষোভের সময় একজন পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলার কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। প্যারিসের উপকণ্ঠে পান্তিন এলাকায় পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হলে তারাও বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় সেখান থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। রেন আর প্যারিসে আবর্জনার ঝুড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সী লোলা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে সে বলেছে, ‘আমাদের দিক থেকে আমরা জিতেছি। আমাদের স্কুল বন্ধ ছিল।’ পুলিশের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলেও দাবি তার। বিক্ষোভকারী লোলা বলেছে, ‘আমাদের আঘাত করার, আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার কোনো অধিকার পুলিশের নেই। এটা ক্ষোভ আরও উসকে দিয়েছে।’

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লোকর্নুর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাতে এনবিসি নিউজ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সংকট মোকাবিলায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে কট্টর বামপন্থি রাজনীতিকরা এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তাদের মধ্যে লা ফ্রঁস আঁসুমিজ দলের সদস্যরাও রয়েছেন।