নতুন ভিসির বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। চলমান আন্দোলনের দ্বাদশ দিনে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা নিরসনে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। এটি স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

শুক্রবার একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নবনিযুক্ত উপাচার্য দাবি করেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চারটি পরীক্ষা আন্দোলনকারীদের কারণে আটকে আছে। তবে এই বক্তব্যকে ক্যাম্পাসের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ দাবি করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ওই শিক্ষাবর্ষের প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষাই ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। কেবল একটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু হওয়া বাকি ছিল।

মিছিল শেষে সমাবেশে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, ‘সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতায় আমরা ক্ষুব্ধ। আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি; তিনি যেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে আমাদের ক্লাসে ফেরার পরিবেশ তৈরি করে দেন।’

চলতি বছরের ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অসন্তোষের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করেন কয়েকশ শিক্ষার্থীরা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর সকালে উপাচার্যের পদ থেকে অধ্যাপক আবু সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা ১২ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তারাও সর্বাত্মক কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন।